• ‘চাকরি হারানো শিক্ষকদের পরিবারের দায়িত্বও নিন’, মমতাকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ অগ্নিমিত্রার, দিলেন লম্বা তালিকা
    এই সময় | ২৫ আগস্ট ২০২৬
  • ফুটপাথ আটকে এক মহিলা নাতির জন্য দুধ গরম করছিলেন দেখে ধমক দিয়েছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেই নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা রাজ্যে। অগ্নিমিত্রাকে আক্রমণ শানিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘আমার কোনও কর্মীর বাড়িতে ওদের থাকার ব্যবস্থা করে দেব।’ সোমবার রাতে ফেসবুক পোস্টে সেই নিয়ে মমতাকে পাল্টা তোপ দাগলেন অগ্নিমিত্রা। রাজ্যের বিতর্কিত ও বহুল চর্চিত ঘটনাগুলির প্রসঙ্গ টেনে সোজাসুজি বললেন, ‘বাছবিচার করছেন কেন?’

    গত শনিবার পার্ক স্টিট এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা। সেই সময়ে ফুটপাথের উপরে এক মহিলাকে দুধ ফোটাতে দেখে রেগে যান তিনি। যে কোনও মুহূর্তে বিপদ ঘটে যাওয়ার আশঙ্কায় মহিলাকে বাধা দেন। জানতে চান, তাঁরা কোথায় থাকেন। উত্তরে ওই মহিলা বলেন, ‘বাড়ি থাকলে কী আর রাস্তায় থাকি!’ তিনি ৫০ বছর ধরে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথেই থাকেন বলেও দাবি করেন মহিলা। এর পরেই অগ্নিমিত্রার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। কেউ কেউ ‘অমানবিক’ বলে দেগে দেন। যদিও পরে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘কেউ বাচ্চার মুখের দুধ কেড়ে নেয়নি। সরে যেতে বলা হয়েছে। আমার হয়তো সেটা বুঝিয়ে বলা উচিত ছিল।’

    অগ্নিমিত্রার সেই আচরণকে হাতিয়ার করেই এদিন তোপ দাগেন মমতা। একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘একটা ছোট শিশুর খাবার তৈরি করছিল। দরিদ্রকে ঘৃণা করবেন না।’ একই সঙ্গে তিনি ওই পরিবারের দায়িত্ব নিতে তৈরি বলেও জানিয়ে দেন। মমতার কথায়, ‘মহিলারা রাজি থাকলে, আমি কোনও কর্মীর বাড়িতে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করে দেব। শিশুটির পড়াশোনার দায়িত্বও নেব।’

    এর পরেই রাতে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে অগ্নিমিত্রা পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ‘ওই পরিবারটি কতদিন ধরে ওখানে বসবাস করছিল? এতদিন তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেননি কেন? তখন কি ওরা দরিদ্র ছিল না?’ এখানেই থামেননি তিনি। অগ্নিমিত্রার স্পষ্ট কথা, ‘দায়িত্ব নিতে হলে বেছে বেছে নয়, সকলের দায়িত্ব নিতে হবে।’ এর পরেই এক এক করে রাজ্যের একাধিক বিতর্কিত ও বহুল চর্চিত ঘটনাগুলির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

    পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘নির্যাতিতার পরিবারকে দিয়েই তা হলে শুরু করা যাক।’ ওই ঘটনায় তৃণমূলের এক কর্মীর বিতর্কিত মন্তব্যের কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। টেনে আনেন কামদুনির ঘটনাও। আরজি করকাণ্ডে নিহত চিকিৎসক অভয়ার কথাও উল্লেখ করে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘তাঁকে ভুললেও তো চলবে না।’ চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েও তোপ দাগেন মন্ত্রী, ‘এত শিক্ষক-শিক্ষিকা চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের কথাও কি কখনও ভেবেছেন? তাঁদের দায়িত্বও তো নিতে হবে।’

    ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের পরে রাজনৈতিক হিংসায় বহু বিজেপি নেতা-কর্মী খুন হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘আমরা হেরে যাওয়ার পরে যাঁদের খুন করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ধর্ষণ করা হয়েছিল, তাদের দায়িত্বও তো নিতে হবে আপনাকে।’ শেষে মমতাকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, দু’জনে মিলে দায়িত্ব নিই। আপনার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমিও থাকব এই দায়িত্ব পালনের উৎসবে। আসবেন আপনি?’ মন্ত্রীর দাবি, ‘যদি সত্যিই রাজ্যের মানুষের দায়িত্ব নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তা হলে সমাজের বিভিন্ন প্রান্তে বঞ্চিত বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকেও সেই তালিকায় রাখতে হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)