ক্লাসে হই-হট্টগোল করছিল ছাত্ররা। চুপ করতে বললেও কথা শোনেনি। তখন বকাবকি করেছিলেন শিক্ষক। যেমনটা হয় আর কী! কিন্তু সেটাই ‘অপরাধ’। ছেলেকে বকায় স্কুলে ঢুকে প্রধান শিক্ষক ও ক্লাস টিচারকে বেল্ট খুলে পেটানোর অভিযোগ উঠল এক ছাত্রের বাবার বিরুদ্ধে। সোমবার এমনই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হরিপদ ইনস্টিটিউশনে। অভিযুক্ত অভিভাবকের বিরুদ্ধে গোপালনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শিক্ষকরা। ঘটনার তদন্ত চলছে।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন চলছিল। ক্লাসে বসে সেই কাজ করছিলেন বাংলার শিক্ষক অরুণ দাস। সেই সময়ে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। চেঁচামেচি করতে শুরু করে ছাত্ররা। শিক্ষকের দাবি, বার বার চুপ করতে বললেও কেউ কথা শুনছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতে দু’-একজন ছাত্রকে ‘শাসন’ করেন তিনি। এর পরেই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়। শিক্ষক অরুণ দাসের অভিযোগ, গোটা ঘটনার কথা ফোন করে বাড়িতে জানায় এক ছাত্র। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্কুলে আসেন ওই ছাত্রের বাবা দেবব্রত দাস।
শিক্ষকদের অভিযোগ, স্কুলে এসেই সোজা প্রধান শিক্ষকের ঘরে ঢুকে পড়েন দেবব্রত। তখন সেখানেই ছিলেন অরুণ। তাঁর ছেলেকে কেন বকাবকি করা হলো? এই প্রশ্ন তুলে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন তিনি। অভিযোগ, কথা কাটাকাটির মধ্যে আচমকা কোমরের বেল্ট খুলে অরুণ দাসকে পেটাতে শুরু করেন ওই ছাত্রের বাবা। মুহূর্তের মধ্যে হুলস্থূল পড়ে যায়। বাংলার শিক্ষককে মার খেতে দেখে এগিয়ে যান প্রধান শিক্ষক সমরেশচন্দ্র মণ্ডল। তিনিও বেল্টের আঘাতে আহত হন।
এর পরেই কালো ব্যাচ পরে গোপালনগর থানায় এসে ওই অভিভাবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শিক্ষকরা। পুরো ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত। প্রধান শিক্ষক সমরেশচন্দ্র মণ্ডলের কথায়, ‘স্কুলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ছাত্রদের শাসন করতেই হয়। তার জন্য এমন ঘটনা ঘটতে পারে ভাবতে পারছি না। এই রকম চলতে থাকলে পঠনপাঠন চালানো অসম্ভব।’ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন বাংলার শিক্ষক অরুণ দাস। তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমাকে বেল্ট দিয়ে পেটায়। প্রধান শিক্ষক বাঁচাতে এলে তিনিও আহত হন। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?’ স্কুলের ভিতরে যদি শিক্ষকরাই নিরাপদ না থাকেন, তা হলে স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনা হবে কী করে? এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গোপালনগর থানার পুলিশ। অভিভাবকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং সম্পূর্ণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশ্ন: ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে?
উত্তর: উত্তর ২৪ পরগনার হরিপদ ইনস্টিটিউশনে এই ঘটনা ঘটেছে।
প্রশ্ন: কেন ওই ছাত্রকে বকেছিলেন শিক্ষক?
উত্তর: একাদশ শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন চলাকালীন ক্লাসে হই-হট্টগোল করছিল কয়েকজন ছাত্র। বার বার শান্ত হতে বলার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় দু’-একজন ছাত্রকে শাসন করেন বাংলার শিক্ষক অরুণ দাস।
প্রশ্ন: অভিযুক্ত অভিভাবকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
উত্তর: অভিযোগ, ছেলেকে কেন বকাবকি করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্কুলে এসে কোমরের বেল্ট খুলে অরুণ দাসকে মারধর করেন তাঁর বাবা দেবব্রত দাস।
প্রশ্ন: আর কে আহত হয়েছেন?
উত্তর: অরুণ দাসকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক সমরেশচন্দ্র মণ্ডলও বেল্টের আঘাতে আহত হন বলে অভিযোগ।
প্রশ্ন: পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
উত্তর: শিক্ষকরা গোপালনগর থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।