দাম বেড়েছে চিনি আর পেঁয়াজের। এ ছাড়াও চাল, রসুন, সরষের তেলেরও দাম চড়েছে। তাই মঙ্গলবার থেকেই লালবাজারের নির্দেশে চিনি, পেঁয়াজ-সহ ৬টি খাদ্যবস্তুর কালোবাজারি রুখতে অভিযানে নামছে কলকাতা পুলিশের এসফোর্সমেন্ট শাখার দশটি টিম। শুধু কলকাতা পুলিশই নয়, সঙ্গে থাকছেন খাদ্য দপ্তর ও কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরাও। কলকাতা পুলিশের দশটি ডিভিশনে এই যৌথ টিম মঙ্গলবার সকাল থেকেই একাধিক বাজার ঘুরবে। তার জন্য সোমবার থেকেই বাজারের তালিকা প্রস্তুত করেন পুলিশ আধিকারিকরা। এদিন ইবি-র পুলিশকর্তাদের একটি টিম এই পরিদর্শন নিয়ে খাদ্য দপ্তর ও কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেন।
পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতায়ও দাম বেড়েছে বেশ কিছু জিনিসের। এদিন কলকাতা পুলিশের ইবি আধিকারিকরা ৬টি খাদ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করেন, যেগুলির দাম গত দু’সপ্তাহে বৃদ্ধি হয়েছে। পুলিশের দাবি, চিনির দাম ছিল ৫৮ টাকা। এখন তা হয়েছে ৬৬ টাকা। চালের দাম তিন টাকা বৃদ্ধি হয়েছে। পেঁয়াজের দাম ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৭ টাকা। রসুনের দাম ১৯০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১৫ টাকা। মুরগির মাংসের দাম ছিল ২০০ টাকার মধ্যেই। এখন সেই মাংসের দাম ২০৫ টাকা। সরষের তেলও ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। আবার একই সঙ্গে কলকাতায় পাঁচটি আনাজের দাম কমেছে বলেও দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, আদার দাম কিলোপ্রতি ২০৫ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২০০ টাকা। বেগুনের দাম ৭০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকা, লঙ্কার দাম ৯০ টাকা থেকে কমে ৭০ টাকা, উচ্ছের দাম ৬৫ টাকা থেকে কমে ৫৫ টাকা, ঢেঁড়শের দাম ৫৫ টাকা থেকে কমে ৪৫ টাকা হয়েছে। তবে আলুর দাম ১৩ টাকাই রয়েছে। ডিমের দাম সাত টাকা থেকে কমে হয়েছে সাড়ে ৬ টাকা। সেই ক্ষেত্রে এক জোড়া ডিমের দাম এখন ১৩ টাকা। তবে পুলিশের মতে, এই দামে খাদ্যবস্তু মিলছে মূলত শহরের বড় বাজারগুলিতে। কিন্তু ছোট বাজার বা মুদির দোকানে এই তালিকায় থাকা দামের থেকে বেশি দামেই খাদ্যবস্তু বিক্রি হচ্ছে, এমনই খবর পুলিশের কাছে।
ইবি-র গোয়েন্দাদের কাছে খবর, এর মূল কারণ, পাইকারি বাজার থেকে হাত ঘুরে তা পৌঁছচ্ছে শহরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা ছোট বাজারগুলিতে। তাই দাম কমাতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। তবে ইবি সূত্রের খবর, দশটি ডিভিশনের বড় বাজারগুলিতেই আধিকারিকরা অভিযান চালাবেন। ইবির ইন্সপেক্টর, সাব ইন্সপেক্টর-সহ চার থেকে পাঁচজনকে নিয়ে একেকটি টিম তৈরি হচ্ছে। সঙ্গে থাকছেন স্বাস্থ্য দপ্তর ও পুরসভার আধিকারিকদের টিমও। তাঁরা চিনি, পেঁয়াজ-সহ খাদ্যবস্তুগুলির স্টক মিলিয়ে পরীক্ষা চালাবেন। কেউ কালোবাজারি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। অতিরিক্ত দামে এই খাদ্যবস্তু বিক্রি হচ্ছে কি না, তা-ও দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।