তৃণমূলের বিদায়ে আশার আলো লাল ঝান্ডার! পার্টির শক্তি বৃদ্ধিতে নয়া কৌশল সিপিএমের
প্রতিদিন | ২৪ আগস্ট ২০২৬
অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana), স্বাস্থ্যবিমা, বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের বেফাঁস মন্তব্যের পাশাপাশি তৃণমূল জমানার মতোই তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট-রাজ নিয়ে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটাতে জনমানসে সংগঠন ও আন্দোলন গড়ে তোলার বার্তা দিতে চলেছে সিপিএম (CPM)। আগামী ২৯ ও ৩০ আগস্ট কল্যাণীতে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বর্ধিত অধিবেশনে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের পেশ করা রিপোর্টে এই বিষয়গুলির উল্লেখ থাকতে পারে বলে দলীয় সূত্রের খবর। সেই সঙ্গে ছাত্র ভোটের দাবিকে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রছাত্রীদের সংগঠিত করে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানান রাজ্য কমিটির এক সদস্য।
সিপিএম নেতৃত্ব মনে করছে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিভিন্ন প্রশ্নকে সামনে এনে তাঁদের আন্দোলনে যুক্ত করতে হবে। অন্নপূর্ণা যোজনা ও স্বাস্থ্যবিমার মতো সামাজিক সুরক্ষার বিষয়, তোলাবাজি-সিন্ডিকেট নিয়ে ক্ষোভ এবং শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীদের বিভিন্ন মন্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরে কলকাতা-সহ জেলায় জেলায় আন্দোলন গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হবে। শুধু দলীয় কর্মসূচি নয়, স্থানীয় মানুষকে সঙ্গে নিয়েই আন্দোলনের পরিধি বাড়ানোর নির্দেশ থাকতে পারে। একইসঙ্গে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়েও রাজ্য সরকারের উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ভোট না হওয়াকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসের পাশাপাশি রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার বার্তা দেওয়া হতে পারে। ছাত্রদের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ক্যাম্পাসে নির্বাচিত ছাত্র সংগঠনের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়ার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর।
তৃণমূল ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পরেই সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে বামেদের প্রতি নতুন করে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে সিপিএম। এই পরিস্থিতিকে সংগঠন বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে দেখলেও, শুধুমাত্র জনসমর্থন বাড়লেই হবে না। নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক জ্ঞান ও মতাদর্শগত জ্ঞানের মান বাড়াতে হবে বলে সম্পাদকীয় খসড়া রিপোর্টে সতর্ক করা হতে পারে। এই লক্ষ্যেই ‘পার্টি ক্লাস’ পুরোদমে চালু করার উপর জোর দেওয়ার কথা রয়েছে। বিভিন্ন শাখা সংগঠনে সদস্য সংখ্যা বাড়ছে বলে দাবি দলীয় নেতৃত্বের। তবে সদস্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার বার্তাও দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূল থেকে আসা কোনও ‘দাগি’ বা বিতর্কিত ব্যক্তিকে শুধুমাত্র সংগঠন শক্তিশালী করার স্বার্থে দলে জায়গা না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হবে বলে দলীয় সূত্রের খবর। অর্থাৎ, একদিকে মানুষের ক্ষোভকে আন্দোলনের মঞ্চে নিয়ে আসা, অন্যদিকে সংগঠনে নতুন মানুষের প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা-এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার উপরই জোর দিতে চাইছে সিপিএম। দলীয় নেতৃত্বের আশঙ্কা, তৃণমূলের পুরনো নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে দলে নেওয়া হলে সংগঠনের ভাবমূর্তি এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।