• ফের শহরে ‘সফট টার্গেট’ প্রৌঢ়া! গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ডাকাতি, বেল্ট জড়িয়ে খুনের চেষ্টা ‘পুরাতন ভৃত্যে’র
    প্রতিদিন | ২৪ আগস্ট ২০২৬
  • ফের শহরে ‘সফট টার্গেট’ একাকী প্রৌঢ়া! তাঁর গলায় ছুরি দেখিয়ে গয়না ও প্রায় ৭০ হাজার টাকা ডাকাতি করে পালাল বাড়ির ‘পুরাতন ভৃত্য’। এমনকী, প্রৌঢ়া প্রতিবাদ করে উঠলে তাঁর গলায় বেল্ট জড়িয়ে ও মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাঁকে খুনের চেষ্টা করা হয়। যদিও ওই প্রৌঢ়া কোনওমতে প্রাণে বেঁচে যান। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর কলকাতার জোড়াবাগানে (Jorabagan)। ঘটনায় ইতিমধ্যে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশ।

    পুলিশ জানিয়েছে, মহর্ষি দেবেন্দ্র রোডের একটি বহুতলের পাঁচতলায় থাকতেন ওই প্রৌঢ়া। গত কয়েক বছর ধরে তাঁর বাড়িতে পরিচারকের কাজ করে সঞ্জয় ঘোষ নামে এক ব্যক্তি। ওই বাড়িরই একতলায় থাকতেন তিনি। বহুদিন কাজ করার সুবাদে বাড়ির মালিকের বিশ্বাস অর্জন করে ফেলেন সঞ্জয়। জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে প্রচণ্ড মদ্যপান করে বাড়ির পাঁচতলায় মহিলার ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়েন। ভরসার সুযোগ নিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং দরজা আটকে দেন। প্রথমে মহিলা কিছু বুঝতে পারেননি। প্রত্যেকদিনের মতো তিনি কেমন আছেন, সেই ব্যাপারে খোঁজখবর নেন। কিন্তু কথাবার্তার মধ্যেই আসল উদ্দেশ্যে সামনে আসে। হঠাৎ করেই রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে এসে ওই প্রৌঢ়ার গলায় ধরেন সঞ্জয়। বাঁচার জন্য চিৎকার করতে থাকেন ওই মহিলা। সেই চিৎকার যাতে বাইরে না যায় সেজন্য টিভি চালিয়ে আওয়াজ বাড়িয়ে দেন সঞ্জয়! এমনকী ওই মহিলাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

    প্রাণের ভয়ে ওই প্রৌঢ়া ভয়ে চুপ করে থাকেন। আর সেই সুযোগ অভিযুক্ত ওই পরিচারক তাঁর গলা থেকে সোনার হার ও কান থেকে সোনার দুল ডাকাতি করে বলে অভিযোগ। এমনকী প্রৌঢ়ার কোমর থেকে চাবির গোছা কেড়ে নিয়ে আলমারি থেকে ৭০ হাজার টাকা ডাকাতি করেন অভিযুক্ত সঞ্জয়। এরপর বাইরে পালানোর চেষ্টা করলে আক্রান্ত ওই মহিলা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন। তখনই পরিচারক তাঁর গলায় বেল্টের ফাঁস দেয়। দম বন্ধ হয়ে আসে তাঁর। তিনি প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। তখন সঞ্জয় প্রৌঢ়ার মুখে বালিশ চেপে ধরে। তিনি ছটফট করতে থাকেন। প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন। সেই ফাঁকেই সঞ্জয় লুঠের টাকা ও গয়না নিয়ে দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে পালিয়ে যায় বলে দাবি। দীর্ঘদিন ওই বাড়িতে থাকার সুবাদে কারোর কোনও সন্দেহও হয়নি।

    জানা যায়, এদিকে বাড়িতে প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা পড়েই ছিলেন একাকী প্রৌঢ়া! পরে অন্যান্যদের নজরে আসলে দ্রুত তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পরে জোড়াবাগান থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। আক্রান্ত ওই মহিলা নার্সিংহোমের বেডে শুয়েই পুলিশকে পুরো ঘটনাটি জানান। তারই ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি কীভাবে কোন রাস্তা দিয়ে পালিয়েছে, তা নিশ্চিত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)