রাজ্যে পরপর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা হয়েই চলেছে। প্রথমে তারাপীঠের (Tarapithe Hotel Fire) একটি হোটেলে আগুন লাগেশ তার কয়েকদিনের মাথায় নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের (New Market Fire) একটি হোটেলে আগুন লেগে ৯ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা কলকাতায়। সোমবার ভোরে কলকাতার বিমানবন্দরের (Kolkata Airport Fire) কাছে যশোর রোড সংলগ্ন বাঁকড়ায় একটি গাড়ির সার্ভিস সেন্টারে (Car Service Centre) আচমকাই আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে একের পর এক গাড়িতে। পুড়ে ছাই হয়ে যায় কমপক্ষে ২২টি গাড়ি। আগুনে আরও ৮টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ সার্ভিস সেন্টারে (Car Service Centre) আগুন লাগে। খবর পেয়ে প্রথমে পাঁচটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। আগুনের ভয়াবহতা দেখে পরে আরও তিনটি ইঞ্জিন এসে পৌঁছয। মোট আটটি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
আগুনের খবর পেয়ে সার্ভিস সেন্টারে (Car Service Centre) নিজের গাড়ির খোঁজে ছুটে আসেন এক গাড়ির মালিক। তিনি জানান, তাঁর গাড়িটি সারানোর জন্য দেওয়া হয়েছিল। এসে দেখেন, তাঁর গাড়ি আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি, দমকলকর্মীরা তখন কারখানার অন্য প্রান্তে আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এত বড় ক্ষতি হবে, তা তিনি ভাবতেই পারেননি। এখন গাড়ির ক্ষতিপূরণ কীভাবে হবে, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় তিনি।
দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগে থাকতে পারে। এক দমকল আধিকারিক জানিয়েছেন, ভোর ৪টে ৪৫ মিনিট আগুন লাগার খবর আসে। মধ্যমগ্রাম-বিরাটি জোন থেকে দমকলের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে, গোটা সার্ভিস সেন্টারে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজে কিছুটা সমস্যার মুখেও পড়তে হয় দমকলকর্মীদের। সার্ভিস সেন্টারে (Car Service Centre) প্রবেশের জন্য মাত্র একটি পয়েন্ট থাকায় ভিতরে ঢুকতে অসুবিধা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন দমকল আধিকারিকরা (Kolkata Airport Fire)।
এদিকে, ওই সার্ভিস সেন্টারে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দমকল আধিকারিকদের দাবি, আগুন লাগার সময় ঘটনাস্থলে সার্ভিস সেন্টারের কোনও কর্মী বা কর্তৃপক্ষের দেখা মেলেনি। আগুনের প্রকৃত কারণ এবং সেখানে প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, তা তদন্তের পরেই জানা যাবে।