• সরকারি হাসপাতালে আংশিক পরিষেবা, বেসরকারি ডাক্তারদের অনুরোধ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
    এই সময় | ২৪ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, বর্ধমান: চার দিন ধরে তিনি পূর্ব বর্ধমান জেলার হাসপাতাল থেকে প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন। সামগ্রিক ভাবে জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানালেন, সরকারি হাসপাতালে রোগীদের পরিষেবা দিতে বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং টেকনিশিয়ান স্টাফদের সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন পরিষেবা দিতে অনুরোধ করা হবে। তাঁদের যোগ্য সম্মান এবং পারিশ্রমিকও দেওয়া হবে।

    রবিবার প্রশাসনিক বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবাকে স্টার মার্কস দিতে পারব না। মোটের উপরে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ নম্বর পেয়েছে, তা বলতে পারেন। পরিষেবায় মোটের উপরে পাশ মার্ক পেয়েছে।' তিনি যোগ করেন, 'আমাদের তরফেও অনেক ঘাটতি আছে চিকিৎসক, নার্স থেকে টেকনিশিয়ান স্টাফ নিয়োগের ক্ষেত্রে। এখনই আমরা তো তাঁদের নিয়োগ করতে পারছি না। তাই বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান থেকে নার্সিং স্টাফকে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। যোগ্য সম্মান ও পারিশ্রমিক দিয়েই তাঁদের রাখা হবে। 'ভিজিটিং ডক্টর'-এর সম্মান দেবো। আমার সঙ্গে ইতিমধ্যে কয়েকজন চিকিৎসকের কথা হয়েছে।' প্রসঙ্গত বিগত সরকারের সময়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তবে সেটা খুব একটা ফলপ্রসূ হয়নি।

    বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের পরিষেবাকে তিনি শুরুতে 'দশে শূন্য' দিলেও এ দিন সেই জায়গা থেকে সরে এসে বলেন, 'ওটা রাগ করে বলেছিলাম। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিচ্ছন্নতায় থাকবে পাঁচের নীচে। জেলা ঘুরে দেখেছি নার্সিং স্টাফ খুব ভালো। তাঁদের আমি ৭-৮ পয়েন্ট দেবো। চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে আমাদেরও ত্রুটি আছে। তাঁদের যন্ত্রপাতি দিতে পারিনি। তার পরেও ওঁরা যা করেছেন, তার জন্য ৮-৯ নম্বর দেবো।'

    পাশাপাশি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক বা নার্সের কোনও ত্রুটিতে যেন রোগীর বাড়ির সদস্য বা কোনও রাজনৈতিক দলের লোক ধমক না-দেন। তিনি বলেন, 'অনুরোধ জানাচ্ছি সরকারি চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের থেকে আপনারা যেমন ভালো ব্যবহার আশা করেন, তাঁরাও সেটা আশা করেন। সামান্য ভুল হলেই দেখে নেব সূচক কথা বলবেন না। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আজই চলে আসবে, এমনটা ভাববেন না। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত বদল আনতে।'

    সেই প্রসঙ্গ ধরেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জেলার চার-পাঁচজন চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সরকার এই মুহূর্তে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করছে না। তাঁদের আরও একটু সময় দেওয়া হয়েছে। আপাতত সাত দিন তাঁদের উপরে নজর রাখা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, 'আশা করি, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তাঁরা নিজেদের শুধরে নেবেন।'

    শনিবার রাতে কালনা মহকুমা হাসপাতালে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে দেখে ভিড়ের মধ্যে থেকে এক যুবক বলে ওঠেন, 'স্যার আপনি এসেছেন বলে হাসপাতাল এতো পরিষ্কার। হঠাৎ যে কোনও দিন এলে প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারবেন।' স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'কিন্তু আপনারা কী করেন? খেয়ে চিপসের প্যাকেট রাস্তায় ফেলেন। নিজের বাড়িটা পরিষ্কার রাখেন। ঠিক জায়গায় ঠিক জিনিস ফেললে সাফাইকর্মীর প্রয়োজন হতো না। আপনাদের বাড়িতে যদি লোকজন আসেন, আপনারা বাড়ি কী নোংরা করে রাখেন? বিষয়টা হলো সেই পরিচ্ছন্নতা নিয়মিত করা।'

    সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'বেসরকারি ও সরকারি হাসপাতালগুলিতে ফায়ার সার্টিফিকেট আপ টু ডেট করার জন্য সোমবার অবধি শেষ সময়সীমা ছিল, তা আরও সাত দিন বাড়ানো হয়েছে। এর পরে আইন মেনেই ব্যবস্থা নেবে স্বাস্থ্য দপ্তর।'

    তবে মেমারি ও কাটোয়া হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে খুশি নন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'কোভিডের সময়ে যে ১০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থে, তা কার্যকর করেননি আগের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খুব সম্ভবত মোদী নামের প্রতি তাঁর একটা অ্যালার্জি ছিল। সেগুলো নিয়মিত চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত সামগ্রী পড়ে রয়েছে, তার মোড়ক খুলে সাধারণ রোগীদের কাজে ব্যবহার করতে হবে।' যোগ করেন, 'পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে বলেছি। প্রতি ৩০ ফুট অন্তর ডাস্টবিন বসানোর ব্যবস্থা হবে প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে। মানুষকেও তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে।'

  • Link to this news (এই সময়)