রোগী সেজে চেম্বারে ঢুকে এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, তাঁর ছেলের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে দেওয়া হয় খুনের হুমকিও। চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যরা রুখে দাঁড়ালে বাইকে চেপে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালায় দুষ্কৃতীরা। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন এক পথচারী। ভর সন্ধ্যায় গুলির আওয়াজে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তুঁতবাড়ি এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, তুঁতবাড়ি এলাকায় নিজের বাড়িতেই দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখছেন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক চন্দ্রশেখর দাস। এদিন সন্ধ্যায় চেম্বারেই ছিলেন তিনি। রোগীও দেখছিলেন। সেই সময়ে রোগী সেজে দুই ব্যক্তি তাঁর চেম্বারে ঢোকেন বলে অভিযোগ। কিন্তু তাঁদের কথাবার্তা আর আচরণে সন্দেহ হয় চিকিৎসকের। তখনই প্রেসক্রিপশন লেখার জন্য চিকিৎসক তাঁর ছেলে চিরঞ্জিৎ দাসকে চেম্বারে ডাকেন।
চিরঞ্জিৎ ঘরে ঢুকতেই দু’জন নিজেদের পুলিশকর্মী বলে পরিচয় দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ। দাবি করে, ড্রাগ পাচারের তদন্তে তারা এসেছে। চিকিৎসক চন্দ্রশেখর দাসকে গ্রেপ্তার করবে তারা। চিরঞ্জিত তাঁদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, আচমকাই রাসায়নিক মেশানো রুমাল চন্দ্রশেখরের নাকে চেপে ধরে এক দুষ্কৃতী। ছটফট করতে করতে চেয়ার থেকে পড়ে যান চিকিৎসক। আর এক জন আগ্নেয়াস্ত্র বের করে চিরঞ্জিতের মাথায় ঠেকিয়ে প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকি দিতে শুরু করে বলে অভিযোগ।
ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করেন চিরঞ্জিত। পরিবারের বাকি সদস্যরা চেম্বারে ছুটে আসেন। তখন বেগতিক বুঝে পালানোর চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। চেম্বারের বাইরে একটি বাইক ছিল। সেটি চেপেই দুই দুষ্কৃতী চম্পট দেয়। অভিযোগ, চিকিৎসকের পরিবারের লোকজন পিছু নিলে দুষ্কৃতীরা এক রাউন্ড গুলি চালায়। রাস্তায় তখন লোকজন ছিলেন। দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলি এক পথচারীর গলা ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন তিনি। গুলির আওয়াজে শোরগোল পড়ে যায়। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেন অনেকে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চেম্বারে দু’জন ঢুকলেও গোটা ঘটনায় মোট ছয় জন জড়িত ছিল। বাকি চার জন চেম্বারের বাইরে অপেক্ষা করছিল বলে অভিযোগ তাদের। দু’টি বাইকে চেপে ছয় জনই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করতে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
প্রশ্ন: কোথায় এই ঘটনা ঘটেছে?
উত্তর: বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তুঁতবাড়ি এলাকায়।
প্রশ্ন: কীভাবে দুষ্কৃতীরা চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকেছিল?
উত্তর: অভিযোগ, রোগী সেজে দুই দুষ্কৃতী চিকিৎসক চন্দ্রশেখর দাসের চেম্বারে ঢুকেছিল।
প্রশ্ন: চিকিৎসকের ছেলের সঙ্গে কী হয়েছিল?
উত্তর: অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা নিজেদের পুলিশকর্মী পরিচয় দিয়ে চিকিৎসককে গ্রেফতারের ভয় দেখায়। পরে তাঁর ছেলে চিরঞ্জিৎ দাসের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়া হয়।
প্রশ্ন: পালানোর সময় কী ঘটেছিল?
উত্তর: চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যরা রুখে দাঁড়ালে দুষ্কৃতীরা বাইকে চেপে পালানোর সময় এক রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ।
প্রশ্ন: গুলিতে কেউ আহত হয়েছেন?
উত্তর: গুলি এক পথচারীর গা ঘেঁষে বেরিয়ে যায় বলে অভিযোগ। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তিনি।
প্রশ্ন: ঘটনায় মোট কত জন জড়িত ছিল?
উত্তর: প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চেম্বারে দু’জন ঢুকলেও গোটা ঘটনায় মোট ছয় জন জড়িত ছিল। দু’টি বাইকে চেপে তারা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
প্রশ্ন: পুলিশ কী পদক্ষেপ করেছে?
উত্তর: বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করতে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।