যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে কীভাবে চলছে দেশবিরোধী কার্যকলাপ? এই নিয়ে এনআইএকে তদন্তভার দেওয়ার দাবি তুলল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ তথা এবিভিপি। এর পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (জুটা)-র সম্পাদক তথা বাংলার অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধে থানায় থানায় এফআইআর করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন এবিভিপির নেতারা। তাঁদের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী এমব্লেম ভাঙার ঘটনায় তিনি জড়িত।
গত বুধবার রাতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেটসুর জিবি মিটিং হওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ও এবিভিপির কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় দুই পক্ষই প্রতিবাদে শামিল হয়। রবিবার যাদবপুর কাণ্ড নিয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন এবিভিপির নেতা নেত্রীরা। সেখানেই তাঁরা এই ঘটনায় উচ্চ শিক্ষা দপ্তর ও এনআইএ তদন্তের দাবি তুলেছেন। এছাড়াও সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষকে একহাত নেন এবিভিপির নেতারা। তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া শ্লীলতাহানির মামলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। ঘটনার দিন এবিভিপির ছাত্রদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। শুধু শতরূপ ঘোষ নয়, সিপিএম নেত্রী আফরিন বেগমকেও এদিন নাম না করে তীব্র কটাক্ষ করে এবিভিপি নেতৃত্ব।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অশান্তির মধ্যেই ভেঙে যায় ঐতিহ্যবাহী এমব্লেমের একাংশ। এই এমব্লেমের নকশা করেছিলেন শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর। সংঘর্ষের মধ্যে ভেঙে পড়ে এই এমব্লেমের পদ্মের পাপড়ির বলয়। এবিভিপির বিরুদ্ধে এমব্লেম ভাঙার অভিযোগ উঠতেই পালটা অভিযোগ করে ছাত্র সংগঠনের নেতা কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, জুটার সম্পাদক তথা বাংলার অধ্যাপকই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। কারণ তাঁর হাতেই প্রথম ভেঙে যাওয়া এমব্লেমের একাংশ দেখা গিয়েছে। এই ঘটনায় এবিভিপির কেউ জড়িত নয়। এমব্লেম ভাঙার কোনও ছবি বা ভিডিও নেই। তাই এই ঘটনায় বাংলার ওই অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধে এফআইআরের হুঁশিয়ারি দিল এবিভিপি। তাঁদের দলের কেউ এই ঘটনায় জড়িত থাকলে তাঁকে বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়ে দেয় নেতৃত্ব। এবিভিপির হুঁশিয়ারি, থানায় থানায় রাজেশ্বর সিনহার বিরুদ্ধে এফআইআর হবে।