চিন সফরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। দুই দেশের সীমান্ত বিবাদ ও প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্য সোমবার বেজিংয়ের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন তিনি। মঙ্গলবার চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। প্রসঙ্গত, ডোভালের এই সফর এমন সময়ে হচ্ছে যখন অরুণাচলে চিনা আগ্রাসনের অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় জনগণ, নয়া মানচিত্র প্রকাশ করে এলএসি সংলগ্ন ২৭টি এলাকার নামবদল করেছে দিল্লি।
ভারতের সঙ্গে ৩৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে চিন। এই সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের বিবাদ দীর্ঘদিনের। সীমান্ত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ২০০৩ সালে তৈরি হয়েছিল ‘স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ’ (বিশেষ প্রতিনিধি)। তবে দীর্ঘ আলোচনাতেই সীমান্ত বিতর্কের কোনও স্থায়ী সমাধান এখনও আসেনি। এই কাঠামোর আওতায় ২৫ তম আলোচনায় যোগ দিচ্ছেন ডোভাল। জানা যাচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে ও যোগাযোগের রাস্তা খোলা রাখতে উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে চলেছে বেজিংয়ে।
এদিকে এই বৈঠক এমন সময়ে হচ্ছে যখন অরুণাচলের কিছু এলাকা চিন দখল করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। এই ইস্যুতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে সরব হয়েছেন তাঁরা। এদিকে চলতি মাসেই ড্রাগনের চোখে চোখ রেখে অরুণাচলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় অবস্থিত চিন অধিকৃত তিব্বতের ২৭টি জায়গার নামবদল করেছে নয়াদিল্লি। চলতি মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে এই বিষয়ে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, ‘অরুণাচল প্রদেশের সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে ভারত সরকারের সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তরফে এই মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে মোট ২৭টি জায়গা ও সেখানকার বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করা হয়েছে।’ এই ডামাডোলের মাঝেই সোমবার চিন যাচ্ছেন ডোভাল।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বসতে চলেছে ‘ব্রিকস’ শীর্ষ সম্মেলন। এখানে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এবিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও কূটনৈতিক মহলের আশা দিল্লি আসছেন জিনপিং। যেখানে মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে তাঁর। তবে সেই সম্মেলনের আগেই বেজিং সফরে কূটনৈতিক সলতে পাকানোর কাজটা সেরে ফেলছেন ডোভাল।