• তিশা ২.০! এবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অন্তঃসত্ত্বা আধিকারিকের রহস্যমৃত্যু, কাঠগড়ায় শ্বশুরবাড়ি
    প্রতিদিন | ২৪ আগস্ট ২০২৬
  • ভোপালের ত্বিশা শর্মার মৃত্যুর ঘটনাকে মনে করাচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে কর্মরত ৩০ বছরের নাজিয়া খানমের রহস্যমৃত্যু। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে দিল্লির দওয়ারকার শ্বশুরবাড়িতে। মৃতার পরিবারে অভিযোগ, স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যেরা তরুণীর উপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাতেন। কার্যত খুন করা হয়েছে তাঁকে। যদিও স্বামীর দাবি, নাজিয়া আত্মহত্যা করেছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র চার মাস আগে গত ১১ এপ্রিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সেকশন অফিসার নাজিয়া খানমের সঙ্গে বিয়ে হয় আজম আলি খানের। এফআইআর-এ নাজিয়ার বাবা তওয়াব খান অভিযোগ করেছেন, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতেন তাঁর মেয়ে। স্বামী আজম ছাড়াও শ্বশুর বাবর আলি খান এবং শাশুড়ি সামিন নিশার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তিনি। তওয়াবের দাবি, নাজিয়াকে মারধর করা হত। বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার এবং খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

    নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের অত্যাচারের কথা জানিয়েছিলেন নাজিয়া। কিন্তু পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হয়নি। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরেও নাজিয়ার প্রতি ব্যবহার পালটাননি তাঁরা। ২১ আগস্ট ভোর চারটে নাগাদ নাজিয়ার মৃত্যুর খবর জানানো হয় তাঁর বাপের বাড়ির লোকেদের। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা ফোন করে জানান, তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। যদিও মৃতার বাবার দাবি, তাঁর মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে, আত্মহত্যা বলে চালানো হচ্ছে। জামাই আজম আলি খানকে হত্যাকারী দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

    যদিও পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আজম জানান, নাজিয়ার সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল। এর পরেই ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। হাজার ডাকাডাকিতেও দরজা খোলেননি। পরে নাজিয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তওয়াবের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। যদিও এখনও এই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরিবার দাবি করেছে, যেন ময়নাতদন্তের ভিডিওগ্রাফি হয় এবং প্রমাণা সংরক্ষণ করা হয়। নাজিয়ার ঘটনা উসকে দিল ভোপালের তিশা শর্মার মৃত্যুর ঘটনাকে। গত ১২ মে ভোপালে শ্বশুরবাড়িতে তিশার দেহ উদ্ধার হয়েছিল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)