নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একদিন ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রতিবাদেই আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু শনিবার সমাজমাধ্যমে ভাইরাল সেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজেই স্পষ্ট হয়ে গেল যাদবপুর ক্যাম্পাসে গেরুয়াপন্থী বহিরাগতদের বলপূর্বক প্রবেশ এবং তাণ্ডব চালানোর ছবি। বুধবার রাতে চার নম্বর গেট দিয়ে ঢুকতে দেখা যায় বহিরাগতদের। ফুটেজে যেটুকু দেখা গিয়েছে, তা থেকে বোঝা যাচ্ছে নিরাপত্তারক্ষীদের ভয় দেখিয়েই গেটের তালা খোলানো হয়। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয়টি হল, বহিরাগতদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে আরএসএসপন্থী হিসাবে সুপরিচিত প্রাক্তন উপাচার্য তথা গণিতের অধ্যাপক বুদ্ধদেব সাউকে। ফলে নয়া বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও ফুটেজ দেখে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন সাফ বলেছেন, ‘যাদবপুরে জাতীয় পতাকা ওঠে না। কিন্তু যাদবপুরের ভিতরে-বাইরে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করবই। কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি স্লোগান যারা তুলছে, তাদের মুখ সেলাই করে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। বিজেপির সাংগঠনিক জেলার সিদ্ধান্তে রাখির দিন যাদবপুরে ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম গাওয়া হবে। রাজ্যের সবাইকে গাইতেই হবে বন্দে মাতরম।’ তবে পুর ও নগরোন্ননমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের গলায় ছিল অন্য সুর। তিনি বলেন, ‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এমব্লেম ভেঙে ফেলা সমর্থন করি না, তা যে দলের লোকই করে থাকুক! আমাদের দলের লোকও এই কাজ করলে তা সমর্থন করি না। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনীতি দূরে রাখুন। অনিলায়ন, মমতায়নের সময় পেরিয়ে গিয়েছে।’
ওই প্রাক্তন উপাচার্য অবশ্য এদিন প্রশ্নের মুখে পড়েন। ‘বাইরে থেকে আসা এবিভিপি বা বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে আপনাকে দেখা যাচ্ছে কেন?’ উত্তরে বুদ্ধদেববাবু বলেন, ‘ক্যাম্পাসের কোয়ার্টারেই থাকি। আমার ছাত্রছাত্রীরা আক্রান্ত হলে পাশে থাকব না? এখানে তো উপাচার্য, সহ-উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারের থাকা উচিত ছিল। তাঁরা বাড়িতে থেকে ফোনে এবিভিপি ছাত্রদের মারার পরামর্শ দিয়েছেন বাম ছাত্রদের।’ তাঁর দাবি, ওই সিসি ক্যামেরা তিনিই বসানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। সেখানে যে শক্তিশালী সিসি ক্যামেরা রয়েছে, তা তিনি জানতেন। তাই বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে ঢোকার ব্যবস্থা করবেন, এমন বোকা তিনি নন। বরং তাঁর পালটা প্রশ্ন, ‘এই সিসি ক্যামেরা ফুটেজ ফাঁস হল কী করে? কেনই বা নিরাপত্তাকর্মীদের গায়ে একটা আঁচড়ও লাগেনি? তাহলে কি নিরাপত্তারক্ষীরাও ষড়যন্ত্রে যুক্ত?’ বুদ্ধদেববাবুর বলার পর নিরাপত্তারক্ষীদেরও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা চরমে। যদিও নির্বিকার প্রাক্তন উপাচার্যের অভিযোগ, আরও একটি ‘স্বপ্নদীপ কাণ্ড’ ঘটিয়ে বিজেপি সরকারকে বিপদে ফেলারই উদ্দেশ্য ছিল সেদিন। সেটা তিনি আটকেছেন। এমনকি, এমব্লেম ভাঙার নেপথ্যে বামপন্থী এক শিক্ষক নেতার দিকে আঙুল তুলেছেন।
ছাত্র এবং শিক্ষকদের বক্তব্য, এবিভিপির ছাত্ররা যখন উপাচার্যের ঘরে স্মারকলিপি জমা দিতে যান, তখনও তাঁদের আগলে রেখেছিলেন বুদ্ধদেববাবু। প্রাক্তন উপাচার্য হিসাবে এই কাজ তাঁকে মানায় না। আবার গোটা ঘটনায় যে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে, তাকে দ্রুত কাজে লাগাতে কর্তৃপক্ষ কতটা উদ্যোগী, সেই প্রশ্নও উঠছে। কারণ, এদিন তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, সন্ধ্যায় তিনি ইমেলে চিঠি পেয়েছেন। অর্থাৎ, কমিটি গঠনের ২৪ ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পর ইমেল গিয়েছে তাঁর কাছে।