• শর্তের গেরোয় অটল পেনশন, টাকা পাওয়া নিয়ে সংশয়!
    বর্তমান | ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: দেশের বৃহত্তম পেনশন প্রকল্প—অটল পেনশন যোজনা। অসংগঠিত ক্ষেত্রের সিংহভাগ মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা দিতে ১১ বছর আগে তা চালু করেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। কিন্তু সম্প্রতি দেশের শীর্ষ অডিট সংস্থা কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (ক্যাগ) রিপোর্টে সেই যোজনা ঘিরেই আশঙ্কার সিঁদুরে মেঘ! সামনে এসেছে এই পেনশন পাওয়ার জন্য একাধিক কড়া শর্ত। প্রশ্ন উঠছে, সেই শর্তের গেরোয় পেনশনের টাকা কি আদৌ সবাই পাবেন? নাকি মোদির মুখ চেয়ে বছরের পর ধরে গ্রাহকের ঢালা টাকা স্রেফ জলে যাচ্ছে? কেন্দ্রীয় অডিট সংস্থাটি সাফ বলছে, এই পেনশন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় নিয়মের তোয়াক্কা করা হয়নি। কিন্তু টাকা দেওয়ার সময় মানতেই হবে কড়া নিয়ম। আর তাতেই ফেঁসে যেতে পারেন পেনশন প্রাপকদের একটা বড়ো অংশ। সংশ্লিষ্ট মহলের মত, এটা মোদি সরকারের কোটি কোটি টাকা আদায়ের পর পেনশন না দেওয়ার নয়া ছক! প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রকল্পের সাফল্য বোঝাতে যেমন খুশি, যত খুশি অ্যাকাউন্ট খুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেষপর্যন্ত তার দাম চোকাতে হতে পারে গ্রাহককেই।

    এই প্রকল্পে এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার কথা গ্রাহকের। ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে এই স্কিমে নাম লেখানো যায়। গোড়াতেই সরকার প্রিমিয়ামের একটা অংশ বহন করতে শুরু করে। বছরে তা সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা। কিন্তু সেই সঙ্গে দু’টি শর্তও বেঁধে দেয় কেন্দ্র। প্রথমত, গ্রাহক কোনোভাবেই আয়করদাতা হবেন না। দ্বিতীয়ত, তিনি অন্য কোনো পেনশন স্কিমের আওতায় থাকবেন না। ক্যাগের হিসাব, ২০২২ সালে অটল পেনশন যোজনার গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ৬ লক্ষে পৌঁছায়। সেখানে আয়করদাতার সংখ্যা ছিল ১৪ লক্ষ ১৫ হাজার। আর  অন্যান্য পেনশন গ্রাহক ১৩ লক্ষ ৯৭ হাজার। দু’টি শর্তই লঙ্ঘন করেছেন চার লক্ষেরও বেশি। ক্যাগ জানাচ্ছে, গ্রাহকদের থেকে শুধু ‘সেল্ফ ডিক্লারেশন’ নিয়েই ক্ষান্ত হয়েছে সরকার। তাদের দাবি সত্যি না মিথ্যে, যাচাই করার চেষ্টাই করা হয়নি। জবাবে অর্থমন্ত্রকের সাফাই, গ্রাহক মিথ্যা তথ্য দিলে, তার দায় তাঁদের। ব্যাংক, ডাকঘর সহ যাদের মাধ্যমে আবেদন নেওয়া হয়েছে, তাদেরই উচিত ছিল তথ্য যাচাই করে নেওয়া। ক্যাগের মত স্পষ্ট, এই গাফিলতি হওয়া উচিত ছিল না। এতে অযোগ্যদের সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, প্রকল্প শেষে সেই গ্রাহকরা আদৌ পেনশনের সুবিধা পাবেন তো?

    মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মূল কেওয়াইসি নথি হিসাবে বাধ্যতামূলকভাবে আধার নেওয়া হবে। একজন গ্রাহক একটি মাত্র পেনশন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। কিন্তু ক্যাগ বলছে, কোনো নথিকেই গোড়া থেকে বাধ্যতামূলক হিসাবে নেওয়া হয়নি। অডিট করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, ২ লক্ষ ৮০ হাজার পেনশন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ১ লক্ষ ২৫ হাজার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। সেই অনিয়মও আবার একটি মাত্র ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট মেলাতে গিয়ে ধরা পড়েছে। একাধিক ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকা কোনো গ্রাহকের আরও ক’টি অটল পেনশন অ্যাকাউন্ট আছে, তার তল পাওয়া যায়নি। সরকার বলছে, যখন পেনশন দেওয়া শুরু হবে, তখন আধারকেই বাধ্যতামূলক নথি হিসাবে ধরা হবে। অর্থাৎ লোভের বশে যাঁরা একাধিক অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা ঢালছেন, তাঁরা একটিমাত্র অ্যাকাউন্টেই পেনশন পাবেন। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ক্যাগ।
  • Link to this news (বর্তমান)