ই-পস আর নয়, ডিজিটাল কারেন্সির মাধ্যমে মিলবে রেশনের খাদ্যসামগ্রী
বর্তমান | ২৩ আগস্ট ২০২৬
কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: রাজ্যের শহরপ্রধান দু’টি জেলায় ‘ডিজিটাল কারেন্সি’র মাধ্যমে রেশন গ্রাহকদের খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পাইলট প্রজেক্ট শুরু করতে বলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। গুজরাতসহ দেশের কয়েকটি রাজ্যে ‘সেন্ট্রাল ব্যাংক ডিজিটাল কারেন্সি’ বা সিবিডিসির মাধ্যমে রেশন দেওয়ার পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। গুজরাত ও দিল্লিতে চলতি বছরের মধ্যে এই পদ্ধতি পুরোপুরি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে কেন্দ্রের। এই ব্যবস্থায় গ্রাহকের নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরে আসা ‘টোকেন’ ব্যবহার করে রেশনের খাদ্য দেওয়া হবে। এখন যেভাবে ই-পস যন্ত্রে গ্রাহকের আধার নম্বরের বায়োমেট্রিক যাচাই করে খাদ্য দেওয়া হয়, সেই ব্যবস্থা আর থাকবে না। ই-পস যন্ত্র ব্যবহার বন্ধ হলে সরকারের বছরে ৫৭৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। কেন্দ্রীয় খাদ্য মন্ত্রকের সচিব সঞ্জীব চোপড়া কিছুদিন আগে রাজ্যের রেশন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে কলকাতায় আসেন। তিনি রাজ্যের খাদ্যদপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে শহরপ্রধান দু’টি জেলায় সিবিডিসির পাইলট প্রকল্প চালু করার জন্য উদ্যোগ নিতে বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনার আওতায় থাকা রেশন গ্রাহকরা এই ব্যবস্থায় বিনা পয়সায় চাল-গম পাবেন। গ্রাহকের আধার ও তার সঙ্গে নথিভুক্ত মোবাইল নম্বরটি প্রথমে আধার কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে। তারা সেটি অনুমোদন করার পর প্রক্রিয়াটি চালু করা যাবে। পুরো বিষয়টিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যুক্ত থাকবে। তবে গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোনো লেনদেন হবে না। এই প্রকল্পের জন্য গ্রাহকের অবশ্যই মোবাইল থাকতে হবে। স্মার্ট ফোনে সিবিডিসি অ্যাপে ‘টোকেন’ আসবে। সাধারণ ফিচার ফোনের ক্ষেত্রে মোবাইলে আসা ওটিপি ও ‘ভাউচার’ ব্যবহার করে খাদ্য দেওয়া হবে। টোকেন বা ভাউচারটি রেশন দোকানে স্ক্যান করা হবে।
এই বিষয়টি নিয়ে রেশন ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানিয়েছেন, এতে ডিলারদের কমিশন খাদ্য দেওয়ার পরেই মিলবে। তবে এই ব্যবস্থায় বেশ কিছু আপত্তির কথা তাঁরা সরকারকে জানিয়েছেন। যেমন, আধার যাচাইয়ের হয়রানি বন্ধ হলেও যেসব গ্রাহকের মোবাইল নেই, তাঁরা কী করবেন—এরকম কিছু প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।