নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গঙ্গাসাগরের সমুদ্র সৈকতের হাল ফেরাতে আগের সরকারের আমলেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেভাবে কোনো পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে দানা বাধেনি। কিন্তু প্রচেষ্টা চলেছিল ধারাবাহিকভাবে। এবার রাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। নয়া সরকারও কপিলমুনি মন্দিরের কাছে সৈকতের ভাঙন রোধে উদ্যোগ নিচ্ছে। নেদারল্যান্ডস এবং আইআইটি মাদ্রাজের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে বিচ নারিশমেন্ট স্কিম তৈরি করতে চাইছে রাজ্য।
সাগর বিধানসভার বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল জানান, বর্তমানে এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় এস্টিমেট তৈরির কাজ চলছে। সেচদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার পর দ্রুত টেন্ডার ও কাজের প্রক্রিয়া শুরু হবে। দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গাসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্রের আচরণ আগ্রাসী। সে সূত্রে বাঁধ ভাঙার সমস্যা তৈরি হয়। এর ফলে চরম উদ্বেগে স্থানীয় বাসিন্দারা, সমস্যায় পুণ্যার্থীরাও। সমস্যার বৈজ্ঞানিক ও স্থায়ী সমাধানের জন্য নেদারল্যান্ডস ও আইআইটি মাদ্রাজের বিশেষজ্ঞদের দল এই এলাকায় গিয়ে ভূ-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করেছে। একাধিকবার ঘুরে দেখেছেনএলাকা। দলটি তারপর বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সে রিপোর্টকে ভিত্তি করে এগতে চাইছে রাজ্য। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ঢেউয়ের ঝাপটা রোধ করাই সবথেকে বড়ো চ্যালেঞ্জ। কারণ দুর্যোগের জন্যই ভাঙন বেশি হয়। তাই সৈকতে আছড়ে পড়ার আগেই ঢেউ ভাঙার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা হচ্ছে। তাছাড়া সমুদ্র সৈকতের বালিতে নিয়মিত পলি না জমার কারণেও ভাঙন রোখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। এই সমস্যা দূর করতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বিশেষ উন্নত মানের বালি নিয়ে আসার পরিকল্পনাও আছে বলে জানা গিয়েছে। সমুদ্র বাঁধের নীচে ও নির্দিষ্ট সৈকত অংশে তা ফেলা হবে যা প্রাকৃতিকভাবে পলি ধরে রাখতে সাহায্য করবে এবং বাঁধের আয়ু ও স্থায়িত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আসন্ন সাগর মেলার পর পুরোদমে কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন বিধায়ক।