• চণ্ডীপুরের বরোজ, চৌখালিতে চলল বুলডোজার, ভাঙা হল দোকান ও স্টল
    বর্তমান | ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খালপাড় থেকে সব দোকান ও স্টল ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল চণ্ডীপুর ব্লক প্রশাসন। তারপর শনিবার বরোজ, চৌখালি, কুশলপুর ও উত্তর খালবাড় বাজার যেন ধ্বংসস্তূপের চেহারা নিয়েছে। এদিন বরোজ বাজারে প্রশাসনের উদ্যোগে বুলডোজার চালিয়ে অনেক কংক্রিটের বিল্ডিং ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আর, চৌখালি, কুশলপুর প্রভৃতি জায়গায় দোকানঘর ও স্টল থেকে যাবতীয় মালপত্র সরিয়ে নিজেরা ভাঙাচোরার কাজে হাত লাগিয়েছেন ব্যবসায়ী ও দোকানদারা। খালপাড় জবরদখলমুক্ত করতে প্রশাসন জিরো টলারেন্স পলিসি নিয়েছে। আর তাতেই পুজোর আগে দু’শোর বেশি দোকান ও স্টল ভাঙার কাজ চলছে।

    গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার চণ্ডীপুরের মগরাজপুর খালপাড় দখল করে থাকা প্রায় ৪০টি দোকানঘর ও বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। নিকাশি ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা সরাতে প্রশাসন এই পদক্ষেপ নেয়। শুক্রবার বরোজ, চৌখালি সহ বিভিন্ন জায়গায় খালপাড়ে সেচ দপ্তরের জায়গায় থাকা দোকানপাট, স্টল খালি করে ভেঙে নেওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে চৌখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে একটা আবেদন বিডিও-র কাছে পাঠানো হয়। অন্তত পুজো পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়। কিন্তু, ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর আসেনি। তারপর শনিবার বরোজে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুলডোজার চলে। বরুন্দা খালপাড়ের ধারে থাকা বেশকিছু দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চৌখালি বাজারে নারায়ণদাঁড়ি ও কেতকী খাল রয়েছে। এই দুই খালপাড়ে অন্তত দেড়শো দোকান ও স্টল রয়েছে। দু’বছর আগে সেচদপ্তরের পক্ষ থেকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। খালপাড় দখল করে থাকা দোকান সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সেই নোটিসের পর কেউ স্বেচ্ছায় দোকান ভাঙেননি।

    তবে, এবারের বন্যা পরিস্থিতিতে ব্লক প্রশাসন খালপাড় জবরদখল মুক্ত করতে জিরো টলারেন্স পলিসি নিয়েছে। শুক্রবার মাইকিং হওয়ার পরই শনিবার চৌখালির দোকানঘর গুলি থেকে মালপত্র বের করে নেন ব্যবসায়ীরা। অনেকে নিজেরাই নির্মাণ ভেঙে ফেলেন। মাত্র একদিনেই বরোজ, চৌখালি একেবারে ধ্বংসস্তূপের চেহারা নিয়েছে। এদিন বরোজে দোকানঘর থেকে মালপত্র সরানোর সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন দেবাশিস বিশ্বাস, শেখ সোহেল, বিনোদ জানারা। তাঁরা বলেন, পুজোর জিনিসপত্র স্টক শুরু করেছিলাম। এভাবে পথে বসতে হবে ভাবিনি। এখন কোথায় যাব, কীভাবে রোজগার করব কিছু‌ই জানি না।
  • Link to this news (বর্তমান)