ফিরিয়ে আনা হচ্ছে ব্রিটিশ আমলের ম্যাচলক, ফ্লিন্টলক বন্দুক, পর্যটনে জোর দিতে উদ্যোগ ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে
বর্তমান | ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: বহু ইতিহাসের সাক্ষী ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি! মোগল দরবারের রাজপুরুষ থেকে ব্রিটিশ আমলের বড়লাট, সকলেরই পা পড়েছে সেখানে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন ও ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর অফিসাররা রাজবাড়িতে অবসর সময় কাটাতে আসতেন। তাঁদের ব্যবহৃত বহু সামগ্রী আজও অনাদরে পড়ে রয়েছে সেখানে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের লেশমাত্র ছিল না। সামনেই দুর্গাপুজো। তার আগে পর্যটনে জোর দিতে এবার নষ্ট হতে বসা রাজাদের ব্যবহৃত রাজপুত খণ্ড তলোয়ার (যেগুলির দু’দিকই ধারালো), বল্লম, বর্ম সংরক্ষণের নয়া উদ্যোগ ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িতে। ফিরিয়ে আনা হচ্ছে ব্রিটিশ আমলের ম্যাচলক, ফ্রিন্টলক বন্দুকও। বারুদ ও সলতের সাহায্যে চালানো বন্দুকগুলির গুরুত্ব অপরিসীম। মাওবাদী অশান্তির সময়ই ব্রিটিশ আমলের বন্দুকগুলি রাজ্য সরকারের কাছে জমা করা হয়েছিল। দেড় দশক বাদে রাজবাড়ির তরফে সেগুলি ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সময় থেকে ব্রিটিশ রাজপুরুষদের প্রথা মেনে উপহার দেওয়ার নিয়ম ছিল। সেইসবের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির শেষ রাজা ছিলেন নরসিংহ মল্লদেব। তাঁর আমলেই পুরানো রাজবাড়ি ঘিরে নতুন রাজবাড়ি গড়ে তোলা হয়েছিল। ৭০ বিঘা জমির উপর মোগল ও ইউরোপীয় রীতিতে রাজবাড়ি নির্মাণ করা হয়। রাজবাড়ির সিংহদ্বার পেরিয়ে ভিতরে আউট হাউস রয়েছে। সেখানে রাত কাটিয়েছেন লর্ড ওয়েলিংটন, দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল ঘোষ, বিধানচন্দ্র রায়, বাংলার মহানায়ক উত্তমকুমার। কেন্দ্রীয় সরকার ঝাড়গ্রাম রাজবাড়িকে হেরিটেজের স্বীকৃতি দিয়েছে। কলকাতায় অবস্থিত ইতালীয় কনস্যুলেটের এক আধিকারিক কিছুদিন আগে এখানে থেকে গিয়েছেন। রাজবাড়িতে ‘বাঘবন্দি খেলা’, ‘টিনটোরেটোর যিশু’ থেকে হাল আমলে ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’ সিনেমার শুটিং হয়েছে। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির ভিতরে অবশ্য পর্যটকরা প্রবেশ করতে পারেন না। তবে বিশেষ অনুমতি নিলে বা হেরিটেজ হোটেল ঘর ভাড়া নিলে রাজবাড়ির ভিতরে সংরক্ষিত সমস্ত জিনিসপত্র দেখা যায়।
রাজবাড়ির বর্তমান উত্তরসূরি বিক্রমাদিত্য মল্লদেব বলেন, ‘আমরা পৃথ্বীরাজ চৌহানের বংশধর। জঙ্গলমহলের মাল রাজাদের হারাতে মোগল সেনাপতি মান সিংহের সঙ্গে আমাদের পূর্বপুরুষ সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান এখানে এসেছিলেন। তিনি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। সেই সময়কালের বহু অস্ত্রশস্ত্র রাজবাড়িতে রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী রাজপুত খণ্ড তলোয়ার রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে ব্যবহৃত বন্দুকগুলি মাওবাদী সন্ত্রাসের সময় নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। রাজ্য সরকারের কাছে জমা করা বন্দুকগুলি ফেরত নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। অস্ত্র ছাড়াও রাজবাড়ির প্রাচীন জিনিসপত্র সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষকরা চাইলে সেসব নিয়ে গবেষণা করতে পারবেন।’