• শিক্ষাদানে বইয়ের সঙ্গে মিশেছে প্রযুক্তি, রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পাচ্ছেন জাতীয় পুরস্কার
    এই সময় | ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • পড়ুয়াদের মনন বিকাশে অভিভাবকের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া-নিয়ে আসা, প্রাইভেট টিচারের উপর ভরসা করেই দায়িত্ব ফুরোয় না। ‘পেরেন্ট-স্টুডেন্ট’ কমিউনিকেশনের উপরে জোর দেওয়ার কথা বলেন অনেক শিক্ষাবিদ। সেই ধারণাকেই বাস্তবায়িত করে তুলেছেন বর্ধমান শহরের রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। এ বছর ‘জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার’-এ সম্মানিত হচ্ছেন তিনি।

    বিদ্যালয়ের পাঠদান থেকে শুরু করে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের যুক্ত করা— একাধিক অভিনব উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসাবেই এই মনোনয়ন বলে দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের। শিক্ষাকে শুধু বইয়ের পাতায় আটকে না রেখে প্রযুক্তির সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের পাঠকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়। Augmented Reality-র সাহায্যে বাস্তব পরিবেশের সঙ্গে ডিজিটাল ছবি, লেখা এবং ত্রিমাত্রিক মডেল যুক্ত করে পড়ুয়াদের বিভিন্ন বিষয় বোঝানোর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি Virtual Reality-র মাধ্যমেও জটিল বিষয়কে সহজে বোঝানোর উদ্যোগ রয়েছে। বিশেষ হেড সেটের সাহায্যে মহাকাশ, মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো বিষয় ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখার সুযোগ পায় পড়ুয়ারা। স্কুলের দাবি, এতে পাঠের প্রতি আগ্রহ এবং কৌতূহল দু’টোই বাড়ছে।

    তবে এই স্কুলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অভিভাবকদের সমান গুরত্ব দেওয়া। পড়ুয়াদের মানসিক বিকাশের জন্য অভিভাবকদের ভূমিকার উপরেও জোর দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শুধু পরীক্ষার ফল বা পড়াশোনার নিরিখে পুরস্কার না দিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘সেরা হাসিমুখ’, ‘ঘুরে দাঁড়ানোর সেরা উদাহরণ’, ‘সেরা হাতের লেখা’, ‘উদীয়মান প্রতিভা’ এবং সম্পূর্ণ উন্নতির জন্য ‘বর্ষসেরা পড়ুয়া’— এমন একাধিক বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানে জায়গা করে নেয় অভিভাবকেরাও। সারা বছর পড়াশোনা এবং সহপাঠক্রমিক নানা কাজে সন্তানদের পাশে থাকার জন্য মায়েদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘সেরা আপনজন’ সম্মান।

    স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, পড়ুয়ার সাফল্যের পিছনে পরিবারের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ। প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতেও উদ্যোগী হয়েছে স্কুল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কে তাঁদের ধারণা দিতে সম্প্রতি একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রায় ২১৫ জন অভিভাবক যোগ দেন। বিজ্ঞান, অঙ্ক এবং ইংরেজির মতো বিষয়ে প্রশ্নোত্তর ও শেখার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন প্রয়োগ কী ভাবে করা যায়, তা দেখানো হয়।

    প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরীর বক্তব্য, ‘অনেক অভিভাবক কর্মসূত্রে বা অন্য কারণে সন্তানদের পড়াশোনায় সরাসরি সময় দিতে পারেন না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার তাঁদের সেই শেখানোর কাজে সহায়তা করতে পারে।’ শুধু পড়াশোনা বা প্রযুক্তিই নয়, পড়ুয়াদের পুষ্টির দিকেও নজর রয়েছে স্কুলের। মিড-ডে মিলের পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব উদ্যোগ এবং অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় স্কুলে শুরু হয়েছে প্রাতরাশের ব্যবস্থা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের অনেক পড়ুয়াই সকালে খালি পেটে স্কুলে আসে। তাদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ।

    পলাশ চৌধুরী বলেন, ‘পুরস্কার পেলে প্রত্যেকেই খুশি হয়। তাই শুধু পড়াশোনায় ভাল করা নয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের উৎসাহিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’ তাঁর মতে, প্রযুক্তি, পুষ্টি, পরিবার এবং সহপাঠক্রমিক কার্যকলাপ— সব কিছুকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করেই পড়ুয়াদের সামগ্রিক বিকাশের চেষ্টা করা হয়েছে।

    রিপোর্টিং: গোপাল সোনকার

    ১. পলাশ চৌধুরী কেন জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার পাচ্ছেন?

    পাঠদানে প্রযুক্তির ব্যবহার, অভিভাবকদের শিক্ষাপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা, পড়ুয়াদের সামগ্রিক বিকাশ এবং পুষ্টির দিকে নজর দেওয়ার মতো একাধিক অভিনব উদ্যোগের জন্য তিনি জাতীয় শিক্ষক পুরস্কারে সম্মানিত হচ্ছেন।

    ২. রামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠে কী ভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়?

    স্কুলে Augmented Reality এবং Virtual Reality ব্যবহার করে পড়ুয়াদের বিভিন্ন বিষয় শেখানো হয়। VR-এর মাধ্যমে মহাকাশ বা মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের মতো বিষয় ভার্চুয়াল পরিবেশে দেখানো হয়।

    ৩. স্কুলে অভিভাবকদের কী ভাবে যুক্ত করা হয়েছে?

    পড়ুয়াদের পড়াশোনা ও মানসিক বিকাশে অভিভাবকদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। বার্ষিক পুরস্কার বিতরণীতে সন্তানদের সারা বছর পাশে থাকার জন্য মায়েদের ‘সেরা আপনজন’ সম্মান দেওয়া হয়।

    ৪. স্কুলে AI নিয়ে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

    অভিভাবকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা দিতে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২১৫ জন অভিভাবক অংশ নেন এবং বিজ্ঞান, অঙ্ক ও ইংরেজি শেখায় AI-এর ব্যবহার দেখানো হয়।

    ৫. পড়ুয়াদের পুষ্টির জন্য স্কুলে কী ব্যবস্থা রয়েছে?

    মিড-ডে মিলের পাশাপাশি আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখে স্কুলে প্রাতরাশের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)