খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন মালদার রসিকচন্দ্র মণ্ডল। এখন তাঁর বয়স ১০৫ বছর। বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে তাঁর সাজা মকুব করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটিও তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, ‘এখন থেকে স্বাধীন নাগরিকের মতো জীবন কাটাতে পারবেন রসিকচন্দ্র মণ্ডল।’
ঘটনার সূত্রপাত ১৯৮৮ সালে। সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে ভাই সুরেশ মণ্ডলকে খুনের অভিযোগ ওঠে রসিকের বিরুদ্ধে। ১৯৯৪ সালে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে মালদহের নিম্ন আদালত। পরে রায় ঘোষণার সময়ে, রসিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারক। সেই সময়ে তাঁর বয়স ছিল ৭৪ বছর।
দীর্ঘদিন জেলে থাকার পরে নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেন রসিক। কিন্তু ২০১৮-সালে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। শেষে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। কিন্তু সেখানেও সুরাহা মেলেনি। শেষে ২০২০ সালে ৯৯ বছর বয়সে জেল থেকে মুক্তির জন্য ফের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তিনি। রসিকের আইনজীবীরা দাবি করেন, তাঁর বয়স হয়েছে। নানা রকমের বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এই অবস্থায় রসিককে মুক্তি দেওয়া হোক।
সেই আবেদনের ভিত্তিতে ২০২১ সালের মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মতামত জবাব চায় সুপ্রিম কোর্ট। তার তিন বছর পরে ২০২৪-এর নভেম্বরে তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি দেয় শীর্ষ আদালত। সেই থেকে জেলের বাইরেই ছিলেন রসিক। শুক্রবার সেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত জানায়, রসিকচন্দ্রের বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে বাকি সাজা মকুব করে দেওয়া হলো।
প্রায় চার দশক ধরে আইনি জটিলতার পর অবশেষে কারাগারের গণ্ডি পেরিয়ে মুক্ত জীবনে ফিরলেন রসিকচন্দ্র। জীবনের বাকি দিনগুলি পরিবারের সান্নিধ্যে, নিজের মতো করে কাটানোর সুযোগ পেলেন। শুনানির সময়ে তাঁর বয়সের প্রসঙ্গ টেনে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতিরা। ১০৫ বছরেও তিনি নিজের মামলার বিষয়ে আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছেন শুনে অবাক হয়ে যান তাঁরা।
প্রশ্ন: রসিকচন্দ্র মণ্ডল কেন জেলে ছিলেন?
উত্তর: ১৯৮৮ সালে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে তাঁর ভাই সুরেশ মণ্ডলকে খুনের অভিযোগ ওঠে রসিকচন্দ্রের বিরুদ্ধে। ১৯৯৪ সালে নিম্ন আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
প্রশ্ন: রসিকচন্দ্রের বয়স এখন কত?
উত্তর: বর্তমানে তাঁর বয়স ১০৫ বছর। যখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তখন তাঁর বয়স ছিল ৭৪ বছর।
প্রশ্ন: কলকাতা হাইকোর্ট কী রায় দিয়েছিল?
উত্তর: নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রসিকচন্দ্র কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। ২০১৮ সালে হাইকোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে সাজা বহাল রাখে।
প্রশ্ন: সুপ্রিম কোর্টে কবে আবেদন করেছিলেন রসিকচন্দ্র?
উত্তর: ২০২০ সালে, ৯৯ বছর বয়সে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। বয়স এবং একাধিক বার্ধক্যজনিত সমস্যার কথা তুলে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
প্রশ্ন: কবে জেল থেকে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি পান তিনি?
উত্তর: ২০২৪ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি দেয়। তার পর থেকে জেলের বাইরে ছিলেন রসিকচন্দ্র।
প্রশ্ন: এবার সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নিল?
উত্তর: বয়স ও শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে রসিকচন্দ্রের বাকি সাজা মকুব করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে মামলাটিরও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
প্রশ্ন: মামলার শুনানিতে বিচারপতিরা কেন বিস্মিত হন?
উত্তর: ১০৫ বছর বয়সেও রসিকচন্দ্র নিজের মামলার বিষয়ে আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছেন—এ কথা শুনে বিচারপতিরা বিস্ময় প্রকাশ করেন।
প্রশ্ন: কারা রসিকচন্দ্রের মামলার শুনানি করেন?
উত্তর: প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির চূড়ান্ত শুনানি হয়।