• শৌচাগার থেকে শিক্ষক, রাস্তা থেকে খেলার মাঠ, স্কুলের ছোট ছোট দাবি নিয়ে পথে জেন আলফারা
    এই সময় | ২২ আগস্ট ২০২৬
  • যন্তর মন্তরের আন্দোলন যেন বুকে বল দিয়েছে। সাহস জুগিয়েছে গোটা দেশের ছাত্রসমাজের। ধীরে ধীরে সামনে আসছে পড়ুয়ারা। কোথাও নিছকই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কচিকাঁচা। তাদের চাহিদা অল্প। একটা শৌচালয়, একজন শিক্ষক কিংবা একটা খেলার মাঠ। সেই দাবি নিয়েই পথে নেমেছে তারা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুলগুলিতে এগুলো খুব ছোট অথচ গুরুতর সমস্যা। সেই সব দাবিদাওয়াই এ বার সামনে আসতে শুরু করেছে।

    উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরের একটি স্কুলে ৩০০ জন পড়ুয়া। স্কুলের সামনে রাস্তা তৈরির দাবিতে ৬ কিলোমিটার মিছিল করে গিয়ে কালেক্টরেটের অফিসে স্মারকলিপি দেয় তারা। অবরোধ নয়, রাস্তার একপাশ দিয়ে হেঁটে যায় সবাই। লখনউয়ের একটি স্কুলে আবার শিক্ষকের ঘাটতি। ২৫০ ছাত্রী হেঁটে মিছিল করে তুলে ধরেন সেই দাবি। জয়পুরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়ারা আবার শৌচাগার, নিকাশি এবং শ্রেণিকক্ষের দাবিতে সরব হয়। বিভিন্ন রাজ্যের একাধিক এলাকা থেকে আসছে এমন খবর।

    তবে সব রাজ্যে সমস্যার ধরন এক নয়। ঝাড়খণ্ডে যেমন ৩৬ জন পড়ুয়া পিছু একজন শিক্ষক। কর্নাটকে আবার ৮,০৪২টি স্কুলে মাত্র একজন করে শিক্ষক রয়েছেন,যা রাজ্যের মোট স্কুলের ১০.৮ শতাংশ। পড়ুয়াদের একটাই দাবি, আরও শিক্ষক দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ১৯.৭ শতাংশ স্কুলে ইন্টারনেট রয়েছে। তাদের প্রশ্ন, সব স্কুলে ইন্টারনেটের সুবিধা মিলবে কবে? কেরালার ছবি আবার আলাদা। সেখানে ৯২.৬ শতাংশ স্কুলে ইন্টারনেট এবং ৯৯.১ শতাংশ স্কুলে কম্পিউটার রয়েছে। অথচ অনেক স্কুলে পড়ুয়া নেই। তামিলনাড়ুর স্কুলগুলিতে দরকার ডিজিটাল লাইব্রেরি।

    ‘ইউনিফাইড ডিস্ট্রিক্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস’ (UDISE+) রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে মোট ১৪,৬৬,৬৮২টি স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে ১০,০৩,০৫১টি রাজ্য সরকারের, ২,১৯৪টি কেন্দ্রীয় সরকারের, ৩,৪১,৬৮৯টি বেসরকারি অনুদানহীন এবং ৭৯,২৬১টি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুল। দেশে নথিভুক্ত পড়ুয়া সংখ্যা ২৪.৭ কোটি। কিন্তু শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১ কোটি। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ২৪ জন পড়ুয়ার জন্য একজন শিক্ষক।

    এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। UDISE+ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১,০০,৮৪৩টি স্কুলে মাত্র একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। পড়ুয়া ২৯ লক্ষেরও বেশি। আবার ৫,৬৬৩টি স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই, অথচ সেখানে ২০,৬৬৭ জন শিক্ষক রয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, শৌচাগারের সমস্যা অনেকটাই মিটেছে। মেয়েদের ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার রয়েছে ৯৫.৩% সরকারি এবং ৯৬.৯% বেসরকারি স্কুলে।

    প্রশ্ন: পড়ুয়ারা কেন আন্দোলনে নামছে?

    উত্তর: কোথাও রাস্তা, কোথাও শিক্ষক, শৌচাগার, খেলার মাঠ, নিকাশি বা নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের দাবিতে পড়ুয়ারা পথে নামছে।

    প্রশ্ন: কোথায় কত পড়ুয়া আন্দোলন করেছে?

    উত্তর: হামিরপুরে ৩০০ পড়ুয়া ৬ কিলোমিটার হেঁটে রাস্তার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে। লখনউয়ে ২৫০ ছাত্রী শিক্ষকের ঘাটতির প্রতিবাদ করেছে। জয়পুরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়ারা শৌচাগার, নিকাশি ও শ্রেণিকক্ষের দাবিতে সরব হয়েছে।

    প্রশ্ন: দেশের স্কুলশিক্ষায় সবচেয়ে বড় সমস্যা কী?

    উত্তর: শিক্ষকের সুষম বণ্টন অন্যতম বড় সমস্যা। একদিকে ১,০০,৮৪৩টি স্কুলে মাত্র একজন করে শিক্ষক, অন্য দিকে ৫,৬৬৩টি স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই, অথচ সেখানে ২০,৬৬৭ জন শিক্ষক রয়েছেন।

    প্রশ্ন: সব রাজ্যে কি একই সমস্যা?

    উত্তর: না। ঝাড়খণ্ডে শিক্ষক ঘাটতি বড় সমস্যা, পশ্চিমবঙ্গে ইন্টারনেটের অভাব, তামিলনাড়ুতে ডিজিটাল লাইব্রেরির প্রয়োজন। আবার কেরলে ইন্টারনেট ও কম্পিউটারের সুবিধা থাকলেও বহু স্কুলে পড়ুয়া নেই।

    প্রশ্ন: মেয়েদের শৌচাগারের পরিস্থিতি কেমন?

    উত্তর: এই ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভাল। সরকারি স্কুলের ৯৫.৩% এবং বেসরকারি স্কুলের ৯৬.৯%-এ মেয়েদের ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার রয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)