• কালীঘাটে স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী বৃদ্ধ, ঘরের ভিতর উদ্ধার জোড়া দেহ
    বর্তমান | ২২ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী হলেন স্বামী। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে কালীঘাট থানা এলাকার কুণ্ডু রোডে। স্ত্রী ডলি দে’কে (৫৬) কাটারি দিয়ে খুন করার পর স্বামী বরুণকুমার দে (৬৫) দুহাতের শিরা কেটে আত্মঘাতী হন। ঘর থেকে জোড়া দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সাংসারিক অশান্তি থেকে এই ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। দুজনের দেহ ময়নাতদন্ত করানো হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীঘাটের কুণ্ডু রোডের বাড়িতে থাকতেন স্বামী-স্ত্রী। তাঁদের কোনো সন্তান নেই। বেশ কিছুদিন ধরে বরুণবাবু মানসিক রোগে ভুগছিলেন। তাঁর চিকিৎসা চলছিল। বৃহস্পতিবার রাত আটটা নাগাদ বরুণবাবুদের বাড়িতে এক পরিচিত ব্যক্তি আসেন। তিনি দেখেন, দরজা খোলা ভিতরে দুজনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। তিনি কিছুটা ঘাবড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গেই বাইরে বেরিয়ে আসেন। প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। তাঁরা ঘরে গিয়ে একই অবস্থা দেখে কালীঘাট থানায় খবর দেন। পুলিশ প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ির ভিতরে ঢোকে। বেড রুমের ভিতরে ঢুকে দেখেন, সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন ডলি দেবী। রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। তাঁর গলা, পেটসহ শরীরের একাধিক জায়গায় কোপানোর চিহ্ন রয়েছে। পাশের ঘরে পড়ে রয়েছেন স্বামী বরুণবাবু। তাঁর দুই হাতের শিরা কাটা। পাশে রয়েছে মদের বোতল ও ঘুমের ওষুধ। তা থেকে তদন্তকারীদের অনুমান, স্ত্রীকে প্রথমে কাটারি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে খুন করেন স্বামী। এরপর মদের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খান। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজের দুই হাতের শিরা কাটেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।  উদ্ধার হয়েছে খুনে ব্যবহৃত রক্তমাথা 

    কাটারি। তদন্তে নেমে পুলিশ জেনেছে, মানসিক রোগী হওয়ায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝামেলা হত। এমনকি স্ত্রীকে মারধর পর্যন্ত করতেন। বৃহস্পতিবার দুজনের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হচ্ছিল বলে প্রতিবেশীরা শুনেছিলেন। কিন্তু রোজ এই ধরনের ঘটনা হওয়ায় তাঁরা কেউ বিষয়টি পাত্তা দেননি। অশান্তি থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছে পুলিশ।   
  • Link to this news (বর্তমান)