• এবার প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার মিষ্টির দোকানে ‘গুন্ডাগিরি’ চালানো বিজেপি নেতা, সরকারি আইনজীবী বিরোধিতা না করায় মিলল জামিনও
    বর্তমান | ২২ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বালিগঞ্জে নামকরা মিষ্টির দোকানে গুন্ডাগিরির অভিযোগ উঠেছিল শাসক দলের যে নেতার বিরুদ্ধে, এবার তিনি ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে প্রতারণায় অভিযুক্ত হলেন। কড়েয়া থানায় অভিযোগের পর বৃহস্পতিবার রাতে বিবেক ত্রিপাঠি নামে ওই বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রতারণা, মূল্যবান নথি জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়। কিন্তু এত অভিযোগ থাকার পরও মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি জামিন পেয়ে যান আলিপুর আদালত থেকে। তাঁর জামিনের বিরোধিতা করতে দেখা যায়নি সরকারি মুখ্য আইনজীবীকে। ১০ হাজার টাকার বন্ডে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, অভিযুক্তের গায়ে শাসক দলের ছাপ আছে বলেই কি সরকারপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করল না? 

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাকতলা এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী নন্দকিশোর শর্মা মেফেয়ার রোড ও সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউর সংযোগস্থলে একটি চায়ের দোকানে আসেন নিয়মিত। তিনি একটি ফ্ল্যাটের খোঁজ করছিলেন। সেখানেই চা খেতে যেতেন বিবেক ত্রিপাঠি।  ২০২১ সালে ওই চায়ের দোকানেই তাঁদের পরিচয় হয়। বিবেক কথায় কথায় জানতে পারেন, ওই ব্যবসায়ী ফ্ল্যাট খুঁজছেন। তখন তিনি ব্যবসায়ীকে বলেন, টালিগঞ্জে তাঁর একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সেটি তিনি বিক্রি করবেন। নন্দকিশোর সেটি কিনতে আগ্রহী হলে তাঁকে ফ্ল্যাটের কিছু কাগজপত্র দেন বিবেক। অভিযোগকারীর দাবি, বায়না হিসাবে তিনি ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা দেন বিবেককে। এরপর ফ্ল্যাটের অন্যান্য নথি দেবেন বলে বিবেক দফায় দফায় তাঁর কাছ থেকে ৭ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ। তারপরও তিনি ওই ফ্ল্যাটের দখল পাননি। দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ঘোরাতে থাকেন অভিযুক্ত বিজেপি নেতা। টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে এড়িয়ে যেতে থাকেন বলে অভিযোগ। ২০২৬ সালে ফ্ল্যাটের নথি চেক করতে গিয়ে নন্দকিশোর জানতে পারেন, সেটি ব্যাংকের কাছে বন্ধক রয়েছে অন্য এক ব্যক্তির নামে। এই অবস্থায় তিনি চলতি মাসের ১৯ তারিখ কড়েয়া থানায় প্রতারণার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণাসহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে।  অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ শুক্রবার আলিপুর আদালতে পেশ করে। মূল্যবান নথি জালিয়াতির মতো অভিযোগ রয়েছে (বিএনএস ৩৩৮) বিবেকের বিরুদ্ধে। এই অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তারপরও কেন তাঁকে হেপাজতে নেওয়ার কোনো আবেদনই জানাল না পুলিশ? এমনকি, অভিযোগকারী ফ্ল্যাটের যে জাল নথি পেয়েছিলেন, সেটিও আদালতে দেখাতে পারেননি তদন্তকারী অফিসার। ফলে সহজেই জামিন পেয়ে যান অভিযুক্ত। 
  • Link to this news (বর্তমান)