• ককরোচ আন্দোলনে বীজ রোপণ, যাদবপুরে পূর্ণতা পাচ্ছে বাম ছাত্র ঐক্য
    বর্তমান | ২২ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নজিরবিহীন ঐক্য কি একেই বলে? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অ-বিজেপি ছাত্র রাজনীতির পরিমণ্ডলে। আড্ডার ফাঁকে আচমকা কেউ রসিকতা করে বলে উঠছেন, এই তো এখানে লিবারেশন, সিপিএম সকলে আছে। আমরা তো বাম ঐক্যের শিখরে পৌঁছে গিয়েছি। এর বীজ কি ককরোচ পার্টির আন্দোলন রোপণ করে দিয়ে গেল? এই ঐক্য কি পরিকল্পিত? নাকি সময়ের দাবি? বাম ছাত্রনেতারা বলছেন, সময়ের দাবিতেই এমন ঐক্যের পরিকল্পনা।

    দলীয় দিক থেকে বামফ্রন্টের সঙ্গে সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের জোট হয়েছে। কিন্তু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ আইসিসি নির্বাচনেও বামেদের মধ্যে কঠোর ঐক্য ছিল না। যদিও এভাবেই এবিভিপিকে ঠেকানো গিয়েছিল। ফ্যাসিবাদী জুজু ঠেকাতে এই ঐক্য ছাড়া কি উপায় নেই? এই প্রসঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলছিলেন, ‘বিজেপির তো ছাত্র সংগঠন নেই। ফলত, ওদের ঠেকানোর প্রশ্ন ওঠে না। ওরা তো এসএফআইকে টার্গেট করছে। লড়াই সকলেই করছে। আমরা ১৫ আগস্ট যাদবপুরে একসঙ্গে সমাবেশ করলাম। ছাত্ররাও তো ২৪ জুলাই মিছিল করেছিল। এতেই তো স্পষ্ট, ওরা ভয় পেয়েছে।’ সিপিএমের এক যুব নেতার কথায়, ‘বাম ছাত্র ঐক্য বেশ দৃ‌ঢ় হয়েছে, একথা মানতেই হবে। আরও স্পষ্ট করে বলতে, এসএফআইয়ের সঙ্গে আইসার নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।’ যাদবপুরের অতিবাম ছাত্র সংগঠন আরএসএফের নেতা ইন্দ্রানুজ রায় বলছিলেন, ‘নিজেদের মতাদর্শ সরিয়ে রেখে নয়, সেই মতাদর্শ মনে রেখেই একত্রে লড়াই হচ্ছে। দক্ষিণপন্থার বিকল্প হিসাবে তো একমাত্র বামেরা রয়েছে। আমরা দেখেছি, যাদবপুরে আইসিসি নির্বাচনে এসএফআই আলাদা ছিল। তবুও কলা বিভাগে এবিভিপিকে পরাস্ত করা গিয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও তাই। মতাদর্শগত লড়াই থাকবে। আলাদাভাবে ভোটে লড়েও তো এবিভিপিকে ঠেকানো যায়।’ 

    অন্যদিকে, এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলছেন, ‘সময়ের দাবিতে পরিকল্পনা করেই এই একসঙ্গে লড়াই করা। বিজেপিকে ঠেকাতে, বিজেপি বিরোধী সমস্ত শক্তি একসঙ্গে লড়াই করছে।’ শুক্রবারও যাদবপুরের ছাত্র মিছিলে বাম, অতিবাম সকলকে একসঙ্গে দেখা গেল। ছাত্র পরিষদও সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। ফের ২৪ আগস্ট সমস্ত বাম ছাত্রসংগঠন কলকাতায় মিছিল করবে। -নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)