• তারকেশ্বরে নামমাত্র টাকায় ধর্মশালা কেনার অভিযোগ উত্তমের বিরুদ্ধে
    বর্তমান | ২২ আগস্ট ২০২৬
  • সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: তারকেশ্বর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডুর বিরুদ্ধে ফের অভিযোগ জমা পড়ল তারকেশ্বর থানায়। এবার তীর্থযাত্রীদের জন্য তৈরি ধর্মশালা নামমাত্র টাকায় কেনার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। ওই ধর্মশালাটি ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পত্তি। থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী।

    গণেশবাবু বলেন, ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর উত্তম কুণ্ডু তারকেশ্বর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে তীর্থযাত্রীর জন্য তৈরি করা জয়শ্রী চ্যারিটি ট্রাস্টের বিড়লা ধর্মশালাটি মাত্র তিন কোটি টাকায় কিনে নেন। যার বাজারদর ১০ কোটি টাকার বেশি। পাঁচ হাজার বর্গফুটের এই দোতালা বাড়ি ও পিচ রাস্তার ধারে প্রায় ৮৫ কাঠা জমিতে বিশাল বাগান নিজের নামে রেজিস্ট্রি করেন তিনি। এই ধর্মশালাটি তীর্থযাত্রীদের স্বল্পমূল্যে থাকার জন্য ১৯৫৯ সালে তৈরি হয়েছিল। এই বাগানের ফুল দিয়ে তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো হত। প্রাক্তন চেয়ারম্যান সেটি কেনার পর মন্দিরে ফুল পাঠানো বন্ধ করে দেন তিনি।

    ট্রাস্টের সম্পত্তি কীভাবে ব্যক্তি মালিকানায় বদল হল এবং তা বিক্রি হয়ে গেল, এ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর মধ্যে ওই জায়গা কেনার জন্য মোট তিন কোটি টাকা দেন উত্তমবাবু। এই কেনাবেচায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। গণেশবাবু বলেন, গোটা দলিলই জালিয়াতি করে বানানো হয়েছে। তদন্ত করে এই দলিল বাতিল করা হোক। বিড়লা ধর্মশালায় কর্মরত অসীম কোলে বলেন, প্রথা অনুযায়ী এই বাগানের ফুল যেত মন্দিরে। আমি নিজে ফুল নিয়ে যেতাম। উত্তমবাবু কেনার পর থেকে আমাকে ফুল নিতে বারণ করে দেওয়া হয়। আমি স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ছি, একথা জোর করে আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নেওয়া হয়। এই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা উচিত। 

    এই বিষয়ে উত্তম কুণ্ডু বলেন, এই জায়গাটি বিড়লা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত ট্রাস্টের। বিড়লার মতো সংস্থাকে ঠকিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। ট্রাস্টের সকলের সই করা কাগজ আমার কাছে রয়েছে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি রেজিস্ট্রেশন করে আমাকে বিক্রি করেছেন। আমি যদি কাউকে ঠকিয়ে এই কাজ করে থাকি, তাহলে আমার যা শাস্তি হবে, মাথা পেতে নেব। রাজনৈতিক কারণেই এই অভিযোগ করা হয়েছে। তারকেশ্বর মন্দিরে যদি ওই বাগান থেকে ফুল নিয়ে যেতে চায়, তাহলে আমার কোনো আপত্তি নেই। মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)