নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতার রেড রোড ছাড়াও প্রতিটি জেলা সদরে পূর্বতন সরকারের আমলে পালিত হত দুর্গাপুজোর কার্নিভাল। তবে বর্তমান বিজেপি সরকার সেই কার্নিভালে ইতি টানতে চলেছে বলেই সূত্রের খবর। দুর্গাপুজোর পরের এই অনুষ্ঠানের পরিবর্তে মহালয়ার পর, অর্থাৎ মাতৃপক্ষের সূচনা থেকেই, রাজ্যজুড়ে একাধিক ‘জাঁকজমকপূর্ণ এবং বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বর্তমান সরকারের। ২০১৬ সাল থেকে কলকাতার রেড রোডে এই কার্নিভাল শুরু করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরের বছর থেকে জেলায় জেলায় কার্নিভাল শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন সরকার। সাধারণত দশমীর এক বা দুদিন পর হত কলকাতার কার্নিভাল। আর জেলায় জেলায় কার্নিভাল হত দশমী এবং কলকাতার কার্নিভালের মাঝের একটি দিনে। কলকাতার ক্ষেত্রে প্রায় ১০০টি সেরা দুর্গাপুজো কমিটির দুর্গাপ্রতিমা অংশ নিত এই কর্মসূচিতে। মূলত যে দুর্গাপুজোগুলি ‘বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মান’ পেত, সেই সমস্ত কমিটির প্রতিমাই অংশ নিত কলকাতার কার্নিভালে। মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকতেন অনুষ্ঠানে। কয়েক হাজার মানুষের বসার জায়গা করা হত রাস্তার দুধারে। সাজিয়ে তোলা হত রেড রোডের দুদিক। এক-এক করে সুসজ্জিত ট্যাবলোতে দুর্গা প্রতিমা রেড রোড ধরে এগিয়ে যেত বিসর্জনের পথে। এবং দুর্গা প্রতিমার সঙ্গে সঙ্গে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করতে দেখা যেত পুজো কমিটিগুলিকে। এই কার্নিভাল চালিয়ে না-যাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো কারণ দর্শানো হয়নি। তবে পুজো চলাকালীন যে ঠাকুরগুলি মানুষ প্যান্ডেলে গিয়ে দেখে ফেলেছেন, সেই প্রতিমাগুলিকে নিয়ে ফের একবার করে কার্নিভাল করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশাসনিক মহলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে বলেই খবর। সেক্ষেত্রে কার্নিভালের জন্য যে অর্থ খরচ হত, তা না করে পুজোর আগে (মহালয়া থেকে) জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের বহর বৃদ্ধির পথে হাঁটতে চাইছে নবান্ন। তবে পুজোর আগে যে অনুষ্ঠান হবে তা চূড়ান্ত রূপ নেয়নি বলেই সূত্রের খবর। রীতিনীতি মেনেই পুজো সংক্রান্ত অনুষ্ঠানসূচি সাজা হচ্ছে। দুর্গাপুজোর সময় প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কলকাতার উপস্থিতির কথাও উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন।