• বাংলাদেশের বিদ্যালয়ের ১২৫ বছর, আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন মালদহের অঞ্জনকৃষ্ণ
    বর্তমান | ২২ আগস্ট ২০২৬
  • সংবাদদাতা, মালদহ: দু’বছর আগে পদ্মাপাড়ে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে ভারতীয়দের যাওয়া কার্যত তলানিতে পৌঁছেছিল। সংঘাত না হলেও দু’দেশের বাসিন্দাদের মধ্যে টানাপোড়েনও চলে নিয়মিত। কিন্তু এমন আবহে বাংলাদেশ থেকে পিতৃপুরুষের তৈরি করা স্কুলের ১২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে উষ্ণ আমন্ত্রণ পেয়ে রীতিমত আবেগ তাড়িত হয়ে পড়েছেন মালদহের ইংলিশবাজারের বাসিন্দা অঞ্জনকৃষ্ণ পাল। একই সঙ্গে আমন্ত্রণে সাড়া দিতে মনস্থির করে ফেলেছেন। দ্রুত মিলেছে বাংলাদেশের ভিসাও। শুক্রবার পারিবারিক দু-একজন বন্ধুকে নিয়ে মালদহের মহদিপুর আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি।

    সত্তরোর্ধ অঞ্জনকৃষ্ণ বলেন, এক সময় ঢাকার বিক্রমপুরে আমার পিতৃপুরুষের বাস ছিল। তখনই আমার পূর্বপুরুষ বিনোদবিহারী পাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বেলতলী গঙ্গাপ্রসাদ জগন্নাথ উচ্চ বিদ্যালয়। সময়টা ১৯০১ সাল। এখন এই বিদ্যালয়ের বয়স ১২৫ বছর। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তাঁদের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে। এই আমন্ত্রণ শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়। এর মধ্যে গভীর আন্তরিকতা রয়েছে। তাঁরা আমার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। তারপরে আমন্ত্রণপত্র পাঠান। তাঁদের এই উষ্ণতায় আমি অভিভূত। অঞ্জনকৃষ্ণবাবুর জ্যেঠামশাই ভূপেন্দ্রকৃষ্ণ পাল ছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেনের অনুগামী। ডাক্তারি পড়লেও তিনি ইংরেজ সরকারের কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিতে অস্বীকার করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসাবে পেনশনও প্রত্যাখ্যান করেন। 

    আপাতত নিজের পিতামহের তৈরি করা স্কুলের ১২৫তম বর্ষ পালনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে আবেগতাড়িত তিনি। তাঁর কথায়, দুই দেশের সম্পর্কে ওঠানামা থাকলেও বাংলাদেশের এই স্কুল কর্তৃপক্ষ যেভাবে সম্মানের সঙ্গে আমন্ত্রণ করেছে, তাতে পিতৃপুরুষের ভিটেমাটিতে ফেরার অনুভূতি হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)