তারাপীঠ, কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের জের, কোচবিহারের হোটেল, রেস্তরাঁগুলির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা শুরু
বর্তমান | ২২ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: তারাপীঠ, কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের জেরে নড়েচড়ে বসেছে কোচবিহার জেলা প্রশাসন। জেলার হোটেল, লজ, রেস্তরাঁ পরিদর্শন শুরু করলেন প্রশাসনিক কর্তারা। পুরসভা এলাকায় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদার এক আধিকারিক, পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার ও দমকল বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে তৈরি টিম এই পরিদর্শন চালাচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার শহরের পাশাপাশি জেলার প্রতিটি শহরে থাকা হোটেল, রেস্তরাঁ, লজ, ধর্মশালায় যাওয়া হবে। ফায়ার লাইসেন্স আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সময়মতো সেই লাইসেন্স রিনিউয়াল করা হয়েছে কি না, তাও দেখা হচ্ছে। হোটেল, রেস্তঁরায় থাকা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের মেয়দা উত্তীর্ণ কি না সেটাও দেখে নিচ্ছেন ওই আধিকারিকরা।
কোচবিহার জেলা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ভূষণ সিং বলেন, সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের তরফে যা যা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হবে, আমরা সবই নেব। পাশাপাশি, আমরা প্রতিটি হোটেলে ফায়ার অডিট করানোর জন্য দমকল বিভাগ ও প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।
হোটেল মালিকদের দাবি, হোটেলে প্রায় সারাদিনই এসি চলে। গিজার, জলের মোটর চালানো হয়। এখন সিংহভাগ হোটেলে আধুনিক কিচেন। যেখানে বড়ো বড়ো এক্সজস্ট মেশিন, অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন ইন্ডাকশন ওভেন, বড়ো ফ্রিজ, ওয়াটার পিউরিফায়ার ব্যবহার হচ্ছে। সেইগুলি কতটা সঠিক অবস্থায় রয়েছে তা ফায়ার অডিট করলেই জানা যাবে।
শুধুমাত্র কোচবিহার শহরে ৫০টির বেশি বড়ো এবং মাঝারি মানের হোটেল আছে। জেলায় হোটেলের সংখ্যা শতাধিক। ভূষণ সিং অভিযোগ করে বলেন, আমরা সবসময় দেখেছি বড়ো হোটেলে পরিদর্শন হয়। আমাদের দাবি, ছোট হোটেলেও যেতে হবে। কেউ সরকারি নির্দেশিকা মেনে না চললে আইনি পথে হাঁটতে হবে। প্রতিটি বোর্ডারকে নিরাপদ সুরক্ষিত আশ্রয় দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব ছোটো ছোটো হোটেলগুলিতেও যাতে তাদের বিশেষজ্ঞ টিম যায়।