• পেলেট গানে আক্রান্তকে নিয়ে থানায় রাহুল, চাপে ৭ ঘণ্টা পর এফআইআর
    বর্তমান | ২২ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ২১ জুলাইয়ের পর ২১ আগস্ট। ফের দিল্লি পুলিশ-প্রশাসনকে চমকে দিয়ে মোদি-শাহ বিরোধী ধরনায় বসে পড়লেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাও আবার সংসদ মার্গ পুলিশ স্টেশনের সামনে। সঙ্গে ছিলেন রাজধানীতে ছাত্র-যুব বিক্ষোভে পুলিশের পেলেট গানে আঘাতে এক চোখের দৃষ্টি হারাতে বসা ১৯ বছর বয়সি তরুণ সাহিল লোচাব। তাঁকে পাশে বসিয়ে রাহুল হুমকি দিলেন, কার নির্দেশে গত ২০ জুলাই ছোঁড়া হয়েছিল শরীরে সাংঘাতিক ক্ষত করে দেওয়া পেলেট গান? সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতেই হবে। এফআইআর দায়ের না হওয়া পর্যন্ত নড়ব না। প্রয়োজনে ছ’মাস এখানে বসে থাকব। কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় আদায় করেই ছাড়ব। গত ২১ জুলাই ঠিক এভাবেই আচমকা বোন প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধরনায় বসে পড়েছিলেন রাহুল। শুক্রবার তারই পুনরাবৃত্তি হল সংসদ মার্গ থানায়। টানা সাত ঘণ্টা ধরে চলা ধরনার চাপে শেষপর্যন্ত অবশ্য এফআইআর লিখতে বা‌ধ্য হল দিল্লি পুলিশের ডিসিপি অফিস। ‘আননোন পার্সন’ বা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির নামে দায়ের হল সেই এফআইআর। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাহুলের অটল অবস্থানে নত হতে বাধ্য হ঩লেন অমিত শাহ।  

    যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে গত ২০ জুলাই সাহিলের শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে পেলেট গানের ছররা গুলি। ডান চোখেও লেগেছে তিনটি। সেই চোখের দৃষ্টি ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে। এ নিয়ে অভিযোগ জানাতে গত ১৪ আগস্ট থেকে থানায় থানায় ঘুরছেন সাহিল, সঙ্গে তাঁর মা জ্যোতিদেবী। মন্দির মার্গ, কনট প্লেস, সংসদ মার্গ—তিন থানায় ঘুরলেও এফআইআর লিখতে নারাজ ছিল শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন দিল্লি পুলিশ। এমনকি মোদি সরকারও সংসদ অধিবেশন চলাকালীন জানিয়ে দিয়েছে, পেলেট গানে কেউ আহত হয়নি। কিন্তু জখমদের চিকিৎসা করা কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালের রিপোর্ট মোদি-শাহ সরকারের মুখোশ খুলে দেয়। সেখানে পেলেট গানে আঘাতের উল্লেখ স্পষ্ট। তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ সাকেত গোখলের দায়ের করা আরটিআইয়েও মেলে এক জবাব। মোদি সরকারের উপর চাপ বাড়াতে এদিন সাহিলকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামেন রাহুল। তা সত্ত্বেও এক থানা বলে, আমাদের এলাকার ঘটনা নয়। অন্য থানা দেখিয়ে দেয় ভিন থানার দরজা। শেষমেশ পার্লামেন্ট স্ট্রিট বা সংসদ মার্গে ডিসিপি অফিস। সেখানেও এফআইআর নিতে রাজি হয়নি পুলিশ। রাহুল তখন হুমকি দেন, ‘ধরনায় বসছি। দেখি কে জেতে, গান্ধীগিরি নাকি অমিত শাহ?’ সেই খবর ছড়াতেই উত্তাল হয়ে ওঠে দিল্লি। জায়গায় জায়গায় শুরু হয় যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভ। ছুটে আসেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অধীররঞ্জন চৌধুরী, কুমারী শৈলজা, জয়রাম রমেশরা। থানার বাইরে মাটিতে বসে পড়ে  চরকা কাটতে শুরু করেন কংগ্রেসিরা। সঙ্গে স্লোগান, ‘অমিত শাহ জবাব দো/লাঠি গোলি কা হিসাব দো’। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছুটে আসে সিআরপিএফের দমন বাহিনী র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স। শুরু হয়ে যায় পুলিশ বনাম রাজনীতিকদের স্নায়ুযুদ্ধ। সাত ঘণ্টা সেই পর্ব চলার পর অবশেষে নরম হয় পুলিশ।

    রাহুল অবশ্য আগেই বলে দিয়েছেন, ‘এফআইআর নিতে কেন এত ভয় অমিত শাহজি? এতেই তো স্পষ্ট আপনি দোষী!’ দিনের শেষে যখন এফআইআর দায়ের হল, ফের তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা। বললেন, ‘পুলিশই বলছে, উপরওয়ালা সে পারমিশন মিলনা হ্যায়। স্বরাষ্ট্র সচিব আর অমিত শাহই এফআইআর হতে দিচ্ছিলেন না। কিন্তু যুব শক্তিকে রুখতে পারলেন না অমিত শাহজি। ইয়ে তো সিরফ শুরুয়াত হ্যায়!’
  • Link to this news (বর্তমান)