পড়ুয়াদের একাংশের আন্দোলনের জেরে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি)-এর নেওয়া দু’টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করেছিল হেমন্ত সোরেন সরকার। ওই পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া চাকরিপ্রার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাজ্যের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দিয়েছে ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট। এই ঘটনায় শাঁখের করাত পরিস্থিতি হল হেমন্ত সোরেন সরকারের। আদালতের নির্দেশ প্রকাশ্যে আসতেই ঝাড়খণ্ড সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’র অভিযোগ আনলেন ছাত্রনেতারা।
২৭ দিন ধরে আন্দোলন চালানো ছাত্রদের অভিযোগ, সরকার তাঁদের দাবি মেনে পরীক্ষা বাতিল ও তদন্তের নির্দেশ দিলেও হাই কোর্টে নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যথাযথ যুক্তি তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) ১১তম ও ১৩তম পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মীদের নিয়োগ বাতিলের সরকারি বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা বৃহস্পতিবার হাই কোর্ট স্থগিত করেছে। এছাড়াও খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিলের আদেশটিও আদালত স্থগিত করেছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একগুচ্ছ আবেদনের শুনানি হয় হাই কোর্টে। সেই সময় বিচারপতি দীপক রোশন জানান, রাজ্য সরকারকে পরবর্তী শুনানির দিন অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের বিস্তারিত জবাব দাখিল করতে হবে। বলা বাহুল্য, আদালতের নির্দেশের বলে ১১তম ও ১৩তম জেপিএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীরা তাঁদের নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, তদন্তে কোনও প্রার্থীর নিয়োগের ক্ষেত্রে যদি কোনও অনিয়ম বা কারচুপি ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাঁর পরিণাম ভোগ করতে হবে এবং চাকরি হারাতে হবে।
একদিকে দুর্নীতির অভিযোগে নিয়োগ বাতিল ও তদন্তের দাবি আন্দোলনকারীদের, অন্যদিকে চাকরিপ্রার্থীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ। দুয়ে মিলে তীব্র দোটানায় ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেন সরকার।