'একবার SFI অফিস ভেঙেছিলাম, আবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করব,' JU ইস্যুতে হুঁশিয়ারি দিলীপের
আজ তক | ২১ আগস্ট ২০২৬
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ABVP বনাম বাম ছাত্রদের বচসার মধ্যে কোনওমতেই BJP হস্তক্ষেপ করবে না। এমনটাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। এদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলছেন, 'পরিবর্তন হয়েছে, সবকিছুই হবে। একটু অপেক্ষা করুন, ছ'মাস।'
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুমে দেশবিরোধী স্লোগান এবং গ্রাফিটি রয়েছে বলে আগেই অভিযোগ করেছে ABVP। এবার সেই নিয়ে সরব হলেন দিলীপ ঘোষও। শুক্রবার প্রাতঃভ্রমণের সময়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ বলেন, 'কোনও দাদাগিরি বা দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলতে দেওয়া যাবে না।' আক্রমণাত্মক সুরে মন্ত্রীর বক্তব্য, 'যখনই এরকম কিছু হয়, বাকিরা প্রতিবাদ পর্যন্ত করে না। TMC এই দেশবিরোধীদের পুষে রেখেছিল। আমাদের লোকেরা ওখানে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিল। SFI-এর অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। আবার যদি দেশবিরোধী স্লোগান ওঠে আবার একই ঘটনা ঘটবে, আবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।'
এদিকে, গত বুধবার রাতের অশান্তি বৃহস্পতিবারও অব্যাহত থাকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশাল পুলিশবাহিনী মজুত থাকা সত্ত্বেও ধুন্ধুমার কাণ্ড বাধে কলকাতা ৩২-এ যাদবপুর ক্যাম্পাস চত্বরে। একদিকে, বাম ছাত্র সংগঠনও পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে দেয়। অন্যদিকে, গোলপার্কের দিক থেকে আসা ABVP-ও ৪ নম্বর গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। গেটের উপর উঠে গেরুয়া পতাকা লাগিয়ে দেয় তারা। যাদবপুরের ঐতিহ্যের প্রতীক, বিকশিত শতদলে ঘেরা ৩টি প্রদীপশিখা সম্বলিত এমব্লেমের উপর পা দিয়ে ওঠেন একাধিক ABVP সমর্থক। ফলস্বরূপ ওই এমব্লেম ভেঙে যায়। নন্দলাল বসুর হাতে তৈরি আড়াই দশক আগের ওই চিহ্ন ক্যাম্পাসের ৪ নম্বর গেটের বসানো ছিল। যদিও ABVP-র দাবি এই এমব্লেম তারা ভাঙেনি। কারা ভেঙেছে, তা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তও চেয়েছে RSS-এর ছাত্র সংগঠন।
এদিকে, যাদবপুরের MLA শর্বরীও 'তাণ্ডব চলবে' বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। যদিও রাজ্য BJP সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই অশান্তি থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছেন। তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট, 'BJP-র ছাত্র সংগঠন নয় ABVP। তারা ক্যাম্পাসে কীভাবে রাজনীতি করবে, সেটা তাদের বিষয়। তবে যাদবপুরের এরকম কোনও অশান্তিতে BJP ঢুকবে না।' যদিও তিনি জানিয়েছেন, স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে শর্বরী এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতেই পারেন। আর এবার দিলীপ ঘোষ সরাসরি 'সার্জিক্যাল স্ট্রাইক'-এর হুঁশিয়ারি দিলেন। যা বুধবার ABVP-র নেতৃত্বের গলাতেও শোনা গিয়েছে। ফলে বাম ছাত্র সংগঠনের প্রশ্ন, BJP-র রাজ্য সভাপতি আর দলের নেতাদের কথায় অমিল কেন?