• মালদা-নিউ জলপাইগুড়ি কেন ফোর্থ লাইন? চিকেন'স নেক ঘিরতে বিরাট প্ল্যান রেলের
    আজ তক | ২১ আগস্ট ২০২৬
  • শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেক-কে একেবারে সুরক্ষায় মুড়ে ফেলছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন,শিলিগুড়ি করিডরের গুরুত্ব মোদী সরকার সবচেয়ে ভাল বুঝেছে। আর এই লক্ষ্যে ওই অঞ্চলে রেলকে ব্যাপক ভাবে কাজে লাগাচ্ছে কেন্দ্র।

    মালদা-নিউ জলপাইগুড়ি ফোর্থ লাইন কেন?

    সম্প্রতি মালদা-নিউ জলপাইগুড়ি সেকশনে নতুন রেল লাইনও শুরু হচ্ছে। এই করিডরে প্রথমে রেলের প্ল্যান ছিল, থার্ড লাইন করবে। কিন্তু রেলমন্ত্রক ফোর্থ লাইনের অনুমোদন দিয়েছে। নর্থওয়েস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতনকুমার শ্রীবাস্তবের কথায়, 'মালদা-নিউ জলপাইগুড়ি সেকশনে ফোর্থ লাইনও অনুমোদন পেয়ে গিয়েছে। এর ফলে এই পথে আরও বেশি ট্রেন চালানো সম্ভব হবে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ক্ষমতা বাড়বে। শিলিগুড়ি করিডরের স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব মাথায় রেখে রেল বিশেষ জোর দিচ্ছে ওই করিডরের ক্যাপাসিটি বাড়ানোর জন্য।' মোদ্দা বিষয়, নতুন রেললাইন, ভূগর্ভস্থ রেলপথ, স্টেশন উন্নয়ন ও নতুন ট্রেন, সব মিলিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ রেলপথের ক্ষমতা এবং নিরাপত্তা দুটোই বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    কাটিহার ডিভিশনজুড়ে চলা বৃহত্তর রেল পরিকাঠামো সম্প্রসারণ পরিকল্পনারই অংশ এই ফোর্থ লাইন। সেখানে রেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই রেললাইন ডাবলিং করা এবং ট্রেন চলাচলের ক্ষমতা বাড়াতে একাধিক পরিকাঠামোগত প্রকল্পের কাজ করছে।

    কেন চিকেনস নেক গুরুত্বপূর্ণ?

    শিলিগুড়িতে চিকেনস নেক অঞ্চলটি মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ ভূখণ্ড। কিন্তু ভারতের জন্য ভীষণ সংবেদনশীল। মুরগির গলার মতো আকৃতি বলে একে চিকেনস নেক বলা হয়। ভারতের মূল ভূখণ্ড এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য, অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও সিকিমের একমাত্র স্থলপথ। পশ্চিমে নেপাল, উত্তরে ভুটান এবং দক্ষিণ ও পূর্বে বাংলাদেশ দ্বারা বেষ্টিত। কিছু দূরেই আবার চিনও। তাই এই অঞ্চলে রেলের বিস্তার হলে জাতীয় নিরাপত্তা আরও মজবুত তো হবেই, একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে ভারতের মূল ভূখণ্ডের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। যাত্রীদের সুবিধার পাশাপাশি পণ্য আদানপ্রদানেও সুবিধা হবে।

    কেন নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে?

    নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনকে ঢেলে সাজাচ্ছে রেল। ২০২৭ সালের এপ্রিলের অত্যাধুনিক স্টেশন হয়ে যাবে নিউ জলপাইগুড়ি। বারসই সেকশনে রেললাইন ডাবলিংয়ের কাজও চলছে। পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকায় সেই চাপ সামলাতে কাটিহার ডিভিশনজুড়ে রেল পরিকাঠামো আরও উন্নত ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। গত বছরে বিভিন্ন রুটে ৪২টি নতুন ট্রেন চালু করেছে ভারতীয় রেল। যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্রায় ২৫০টি অতিরিক্ত স্টপেজও দেওয়া হয়েছে।

    উত্তরপূর্ব ভারতে আরও ট্রেন দেওয়ার প্ল্যান

    শিলিগুড়ি করিডরকে মাথায় রেখে ট্রেন সার্ভিসের আরও সম্প্রসারণ হবে উত্তরপূর্ব ভারতে। জোগবানি, রাধিকাপুর ও বালুরঘাট থেকে নতুন লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা করছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকার যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের পুরো নেটওয়ার্কে ১০০ শতাংশ বিদ্যুতায়ন সম্পন্ন হয়েছে। এখন বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিষেবা আরও বাড়ানোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি, গুয়াহাটি থেকে বন্দে ভারত পরিষেবা তিনসুকিয়া ও আগরতলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
  • Link to this news (আজ তক)