গ্রেফতারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মহুয়া মৈত্র, ঠিক কী নিয়ে মামলা?
আজ তক | ২১ আগস্ট ২০২৬
‘হেট স্পিচ’ মামলায় বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর বিরুদ্ধে জারি হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা। সেই পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানালেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বৃহস্পতিবার মহুয়া মৈত্র পিটিআই-কে জানান, নদিয়ার কৃষ্ণনগরের একটি আদালত তাঁর বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করেছে। তবে তিনি হাইকোর্টে যাবেন এই পরোয়ানার বিরুদ্ধে।
মহুয়ার দাবি, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ২২৮ ধারায় তিনি যে অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন, সেটির নিষ্পত্তি করা হয়নি। তার আগেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তিনি জানান, এই ধারায় কোনও অভিযুক্ত ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে নিতে পারেন। বরং আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করার আবেদন জানাতে পারেন।
বুধবার কৃষ্ণনগরের থার্ড কোর্টে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালত উল্লেখ করে, বারবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও তিনি হাজির হননি। আগামী ২৮ অগাস্টের মধ্যে পরোয়ানা কার্যকর করার রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালত জানিয়েছে, কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার ধারাবাহিকতা রয়েছে অভিযুক্তের। এর থেকে স্পষ্ট যে তিনি আদালতের নির্দেশ মেনে চলার বিষয়ে গাফিলতি করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা ছাড়া আদালতের সামনে আর কোনও বিকল্প ছিল না।
কেন আদালতে হাজির হননি মহুয়া?
নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন মহুয়া। তাঁর দাবি, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথম দু’টি হাজিরার তারিখ— ৪ ও ১২ অগাস্ট তাঁর পক্ষে হাজির হওয়া সম্ভব ছিল না। কারণ, ওই দু’দিনই তিনি সংসদের অধিবেশনে যোগ দিতে দিল্লিতে ছিলেন।
এছাড়াও তাঁর দাবি, কৃষ্ণনগর বার অ্যাসোসিয়েশনের ‘বয়কট’-এর কারণে সংশ্লিষ্ট আদালতে কোনও কাজ হচ্ছিল না। পিটিআই-এর হাতে নদিয়া জেলা জজের কাছে পাঠানো কৃষ্ণনগর বার অ্যাসোসিয়েশনের ফোরামের একটি রেজোলিউশনের কপিও রয়েছে। সেখানে ১৪ জুলাই থেকে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত কৃষ্ণনগরের থার্ড জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আইনজীবীদের না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছিল।
মহুয়া জানান, ৪ ও ১২ অগাস্ট আদালতের সমনে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে হাজির হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ওই দু’দিন সংসদে ছিলেন। শুধু তাই নয়, আদালত ‘বয়কট’-এর আওতায় থাকায় তাঁর আইনজীবীও হাজির হতে পারেননি।
তাঁর দাবি, তৃতীয় সমনে তাঁকে ১৮ অগাস্ট আদালতে হাজির হতে বলা হয়। তার আগের দিনই আইনজীবীদের ‘বয়কট’ প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
মহুয়ার বক্তব্য, ১৮ অগাস্ট তিনি দিল্লিতেই ছিলেন। তাঁর আইনজীবী আদালতে হাজির হয়ে BNSS-এর ২২৮ ধারায় অব্যাহতির আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তাঁকে পরের দিন, অর্থাৎ ১৯ অগাস্ট সকালে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়। তাঁর অভিযোগ, এর জন্য ২৪ ঘণ্টারও কম সময় দেওয়া হয়েছিল।
পরের দিন দিল্লি থেকে এত কম সময়ের মধ্যে কৃষ্ণনগরে যাওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে তাঁর আইনজীবী আদালতের কাছে অব্যাহতির আবেদনটি আগে নিষ্পত্তি করার আর্জি জানান। যাতে আবেদন খারিজ হলে হাইকোর্টে যাওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু সেটা না করে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে বলে অভিযোগ মহুয়ার।
মহুয়া জানান, এবার তিনি গ্রেফতারি পরোয়ানাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে যাবেন।
কী অভিযোগ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে?
চৈনা নন্দী-সহ পাঁচজন মহুয়ার বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, মহুয়া মৈত্র ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের শ্রদ্ধেয় কিছু ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রতীক সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। সেই নিয়েই শুরু হয়েছে এই মামলা।