• ‘ব্যবসা চালানো সরকারের কাজ নয়’, বার্তা শমীকের
    এই সময় | ২১ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত রাজ্য সরকারের হাতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নিকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন। কোন কোন সংস্থার বিলগ্নিকরণ করে শেয়ার বাজারে নথিভুক্ত করা যায়, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। বাজেটের এই প্রস্তাব আগামী দিনে আরও গতি পাওয়ার ইঙ্গিত এ বার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ভাষণে পাওয়া গেল।

    বিধা‍ননগরে বৃহস্পতিবার একটি বিজ্ঞান প্রদর্শনীর অনুষ্ঠানে শমীক বলেন, ‘ভারত সরকারের কাছে স্টার্ট আপ সংক্রান্ত বিষয়ে আইআইটি–র প্রাক্তন ছাত্রদের কাছ থেকে প্রচুর প্রস্তাব আসছে। একটি প্রজেক্টে স্পেস নিয়ে কাজ হচ্ছে। ডিফেন্সের যন্ত্রপাতি তৈরির ক্ষেত্রে একটি প্রজেক্টে কাজ হচ্ছে। এখানেও প্রতিভাবান ছাত্ররা এগিয়ে এ‍লে (পশ্চিমবঙ্গ) সরকার পাশে থাকবে। সরকারের কাজ কোনও ব্যবসা চালানো নয়।’ পশ্চিমবঙ্গের কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্যও বেসরকারি উদ্যোগের পক্ষপাতী বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর পর্যবেক্ষণ— বাংলার শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বর্ধমান জেলায় কৃষি উৎপাদন নিম্নগামী। তাঁর কথায়, ‘জমির উৎপাদনশীলতা কমছে। পশ্চিমবঙ্গ চাল উৎপাদনে এখন দেশের মধ্যে তিন নম্বরে। ৩০ শতাংশ জমি এখনও সেচের বাইরে রয়েছে। কৃষিক্ষেত্রের আধুনিকীকরণ হয়নি। এটা কোনও সরকার অথবা মন্ত্রীর পক্ষে করা সম্ভব নয়। আপনাদের (বিজ্ঞানী–উদ্যোগী) কৃষিতে প্রস্তাব দিতে হবে।’

    বাংলার কৃষিক্ষেত্রে শমীক বেসরকারি উদ্যোগপতিদের হস্তক্ষেপের যে ভাবনা তুলে ধরেছেন, তা আগামী দিনে সরকার কী ভাবে বাস্তবায়িত করে, সেটা দেখার বিষয়। বাম ও তৃণমূলের প্রায় অর্ধ শতকের শাসনে পশ্চিমবঙ্গ প্রান্তিক রাজ্যে পরিণত হয়েছে, সবকিছুর রাজনীতিকরণ চলেছে এবং বাংলা থেকে মেধা ও পুঁজি সবই বাইরে চলে গিয়েছে বলে তাঁর পর্যবেক্ষণ। রাজ্যে নতুন সরকার তৈরি হওয়ার পরে পরিস্থিতির গুণগত বদল হবে বলে শমীক মনে করছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতির কথায়, ‘বেঙ্গালুরুর তিন বছর আগের হিসেব বলছে ১৪ লক্ষ ৬০ হাজার বাঙালি সেখানে কাজ করছেন। ওখানে দ্বিতীয় কথ্য ভাষাই হলো বাংলা। সিলিকন ভ্যালি, নিউজার্সি, সান ফ্রানসিসকো, ম্যানহাটনে প্রতিষ্ঠিত বাঙালিরা রয়েছেন। একশো দিন আগে নতুন সরকার এসেছে (রাজ্যে)। এই সরকার দল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়।..মেধার বিকাশে সরকার আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে।’ কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের আর্থিক নীতির সাযুজ্য রেখেই শমীক তাঁর ভাবনাগুলি বিজ্ঞান প্রদর্শনীর অনুষ্ঠানে তুলে ধরেছেন। যদিও কেন্দ্র বিলগ্নিকরণের ক্ষেত্রে প্রতি বাজেটে যে টার্গেট ঘোষণা করে, তা পুরোপুরি পূরণ হয় না। এই লক্ষ্যে রাজ্য সরকার কতটা সফল হয়, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হয়ে যাবে।

  • Link to this news (এই সময়)