এই সময়: অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের গৈরিকীকরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে এই ‘আগ্রাসন’–এর বিরুদ্ধে আজ, বৃহস্পতিবার অ্যাকাডেমির সামনে রাণুছায়া মঞ্চে অবস্থান–বিক্ষোভের ডাক দিলেন নাট্যকর্মীদের একাংশ। তার আগে বুধবার প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপিকে তোপ দাগেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রেস ক্লাবের আগে সাংবাদিক বৈঠক রাণুছায়া মঞ্চেই হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পুলিশ শেষ মুহূর্তে অনুমতি প্রত্যাহার করে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব সৌমিত্র বসু, জয়রাজ ভট্টাচার্য, বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়, বিমল চক্রবর্তী, অরূপ রায়রা। তাঁদের অভিযোগের তির বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনা হলো, রাজ্য পালাবদলের পরেই অ্যাকাডেমির টিকিট কাউন্টারের রং বদল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রথমে ওই টিকিট কাউন্টারে গেরুয়া রং করা হয়। এর প্রতিবাদে এই নাট্যকর্মীরাই তা সাদা করে দেন। কিন্তু তার ঠিক পরের দিনই ফের টিকিট কাউন্টারের রং বদলে গেরুয়া করা হয়। সেই অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ।
প্রাবন্ধিক ও শিল্পসমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘অ্যাকাডেমি সংস্কৃতির পীঠস্থান, সেই পীঠস্থানের সম্মান পুরোপুরি ভূলুন্ঠিত হচ্ছে। এর প্রতিরোধ দরকার।’ নাট্যব্যক্তিত্ব বিপ্লবের সংযোজন, ‘এটা ফ্যাসিবাদী পদক্ষেপ। অ্যাকাডেমিকে ওরা দখল করতে চাইছে। আমরা সেটা হতে দেবো না।’
নাট্যকর্মীদের অভিযোগ, জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে গেরুয়া রং করে ওই ঘরের ভিতরে ভারতমাতা, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর ছবি লাগিয়ে বিজেপি রাজনীতি করতে চাইছে। রুদ্রনীলের নাম না করে জয়রাজের কটাক্ষ, ‘ওখানে যে বিজেপি বিধায়কের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটেছে, তিনি শেষ বার ২০০৪–এ অ্যাকাডেমিতে নাটক করেছেন। সে সময়ে একটি ঘটনায় পুলিশ অ্যাকাডেমির ফ্রন্ট গেট বন্ধ করে দেয়, তখন তিনি পিছনের গেট দিয়ে পালান। এখন ক্ষমতায় এসে ফ্রন্ট গেট দখল করতে চাইছেন।’
পাল্টা কটাক্ষে রুদ্রনীলের দাবি, ‘এঁরা নাট্যকর্মীর থেকেও বেশি সিপিএম কর্মী। আগে ওঁরা সিটুর দখল করা ঘরগুলি খালি করুন, তার পর বুঝব আদতে নাট্যকর্মী কি না।’ তাঁর সংযোজন, ‘এরা ভারতমাতাকে মানেন না, প্রধানমন্ত্রী–মুখ্যমন্ত্রীকে মানেন না— তা হলে দেশে থাকার দরকার কী, দেশ থেকে বেরিয়ে গেলেই হয়!’ তাঁর দাবি, ‘বিজেপি সংস্কৃতিকে স্বাধীন করার পক্ষে, দলবাজিটা এই নাট্যকর্মীরাই এখানে এনেছেন।’