ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের পর এবার আরামবাগ মাস্টার প্ল্যান। বন্যা রুখতে এমনই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু পরিকল্পনা নয়, আগামী এক বছরের মধ্যে আরামবাগ মাস্টার প্ল্যান শেষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে এবং তার জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই ঘোষণায় আশায় বুক বাঁধছেন আরামবাগবাসী। বৃহস্পতিবার আকাশপথে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর আরামবাগে প্রশাসনিক বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে ছিলেন আরামবাগের প্রাক্তন তৃণমূল তথা বর্তমান এনসিপিআই সাংসদ মিতালি বাগও। তিনি জানান, বন্যা পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা হয়েছে। মানুষকে যাতে বারবার ভুগতে না হয়, তার সমাধানসূত্র বের করতে চান মুখ্যমন্ত্রী।
গত কয়েকদিনের লাগামহীন বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন আরামবাগ। রাজ্যের বন্যা মানচিত্রে আরামবাগ ও ঘাটাল – এই দুই জায়গা বরাবর উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি করে। বন্যা রুখতে এর আগে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কথা বলে তা বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছিল তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। এবিষয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্যোগ নিতে দেখা যায় ঘাটালের তারকা-সাংসদ দেব ওরফে দীপক অধিকারীকে। তিনিই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত করার প্রতিশ্রুতি আদায় করে নেন। সেইমতো তখন রাজ্য সরকারের একক খরচে কাজ শুরু হয়েছিল। তবে বদলের বাংলায় সেই কাজ স্থগিত যাতে না হয়, তার জন্য সাংসদ দেব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাদাভাবে আলোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রীও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
এবার আরামবাগের পালা। সেপ্টেম্বরে ফের বন্যায় ডুবতে পারে হুগলি জেলার এই ব্লক, তা নিয়ে বৃহস্পতিবারের প্রশাসনিক বৈঠকে সতর্কবার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ জানিয়েছেন, “আরামবাগ জেলা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, খুব তাড়াতাড়ি আপডেট হচ্ছে। বিভিন্ন ব্রিজকে কংক্রিট করার কথা বলে গিয়েছেন। আরামবাগ সেতু নিয়ে দ্রুত কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন।” ২০২৭ সালের মধ্যে সেই কাজ শেষ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেচদপ্তরকে ঠিকমতো কাজ করতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আরামবাগ মাস্টার প্ল্যানের ঘোষণা হওয়ায় খুশি আরামবাগবাসী। সাধারণ মানুষ জানাচ্ছেন, আরামবাগ মাস্টার প্ল্যানের পরিকল্পনা বেশ কার্যকরী।