• সোরেনের শাঁখের করাত! ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ হাই কোর্টের
    প্রতিদিন | ২১ আগস্ট ২০২৬
  • ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি)-এর নেওয়া দু’টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করেছিল হেমন্ত সোরেন সরকার। বৃহস্পতিবার রাজ্যের ওই নির্দেশিকায় স্থগিত দিল ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট। এর ফলে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানানো প্রার্থীরা স্বস্তি পেলেন। যদিও শাঁখের করাত পরিস্থিতি হল ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের। কারণ পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন আন্দোলনকারী ছাত্ররা। তাঁদের মন রাখতেই দু’টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। এখন আদালতের নির্দেশে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করল।   

    প্রায় এক মাস যাবৎ আন্দোলনের জেরে ১১তম থেকে ১৩তম জেপিএসসি পরীক্ষা এবং ফুড সেফটি অফিসার পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ঝাড়খণ্ড রাজ্য সরকার। এর বিরুদ্ধে আবেদন করেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। শুনানি শেষে সরকারি সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ দেয় ঝাড়খণ্ড আদালত। এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পালটা হলফনামা-সহ জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতির বেঞ্চ। আদালতের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের অর্থ হল, পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্ত স্থগিত থাকবে। এইসঙ্গে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, উভয় পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা অবিলম্বে তাঁদের কাজ পুনরায় শুরু করার সুযোগ পাবেন।

    ২৬ দিন ধরে চলা পড়ুয়াদের আন্দোলনের চাপেই ঝাড়খণ্ড সরকার ২০১৪ সাল থেকে জেপিএসসি, ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি) এবং একটি আউটসোর্সড এজেন্সির মাধ্যমে আয়োজিত ২২টি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল এবং আরও ২৩টি পরীক্ষার বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়। এর জন্য ‘জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চ’ গড়ে রাজ্য সরকার। আদালতে সরকার জানায়, সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য এই পদক্ষেপ (পরীক্ষা বাতিল) জরুরি ছিল। যদিও এখনও পরীক্ষা বাতিল না করে বিষয়টি পর্যালোচনার পক্ষে আদালত। বস্তুত হেমন্ত সোরেন সরকার পরীক্ষা বাতিল করার কয়েক দিনের মধ্যেই হাই কোর্ট এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করল। শাঁখের করাত হেমন্ত সোরেন সরকার এখন কী সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই দেখার। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)