• সেন্সাসের কাজ নাকি পড়ানো, কোনটা করবেন শিক্ষকরা? নয়া বিজ্ঞপ্তিতেও ধোঁয়াশা, রায় ঘোষণা করবে হাইকোর্টই
    এই সময় | ২০ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: শিক্ষকদের সেনসাসের কাজে নিয়োগ করা নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটল না। বুধবার রাজ্য সরকার তার ৩ অগস্টের বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যেখানে বলা ছিল, স্কুল ছুটির পরে এবং উইকএন্ডে জনগণনার কাজ করতে হবে শিক্ষকদের। এ দিন শিক্ষা দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারির কাছে আবেদন করা হয়েছে যে, সেনসাসের কাজে শিক্ষকদের এমন ভাবে ব্যবহার করা হোক, যাতে পড়ুয়াদের স্বার্থ ও পঠন–পাঠনের কোনও ভাবেই বিঘ্ন না–ঘটে। তবে পড়ুয়াদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে কী ভাবে জনগণনার কাজ করা হবে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

    শিক্ষকদের একাংশ আগেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। সেই মামলায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য, দুই সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখে এ দিন ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। ক্ষোভের সঙ্গে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন, ‘একটা ব্যাপার স্পষ্ট করতে এতদিন ধরে বলছি— কী ধরব, শিক্ষকরা সেনসাস–ডিউটি করবেন, নাকি স্কুলের ডিউটি? কর্তৃপক্ষ শুধু এটা স্পষ্ট করে বলুন।’ কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন সেনসাস কর্তৃপক্ষ নিজেদের অবস্থান জানাতে না–পারায় বিচারপতি শেষমেশ জানান, হাইকোর্ট নিজেই এই ব্যাপারে রায় ঘোষণা করবে। এ দিন আদালত অন্য একটি মামলায় ডিএলএড প্রশিক্ষণরতদের সেনসাসের কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

    এ দিন হাইকোর্টের বক্তব্য, সপ্তাহ খানেক ধরে দুই সরকারকেই সমস্যার সামাধানের জন্য সময় দেওয়ার পরেও কোনও কাজ হয়নি। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের মন্তব্য, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে কোর্ট দুই সরকারকে সময় দিয়েছে ব্যাপারটার সুষ্ঠু সমাধান করতে। কিন্তু বাস্তবে কেউ কিছুই করেননি। এমনকী, সরকারি আইনজীবীরা কী কাজ করছেন, কী বুঝতে পারছেন, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। যদি তাঁরাই না–বোঝেন, তা হলে তাঁরা অফিসারদের কাছ থেকে ঠিকঠাক ইনস্ট্রাকশান আনবেন কী করে?’

    ক্ষোভের সঙ্গে বিচারপতি রাও বলেন, ‘সরকারি আইনজীবীদের ব্যাপারে আগেও বলেছি। আপনারা কোর্টকে বোকা ভাবছেন। এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। এমন ইনস্ট্রাকশান আনছেন, যার মূল বক্তব্য গোল গোল করে কিছু একটা বলা, যার অর্থ নিজেদের কাছেই স্পষ্ট নয়।’ বিচারপতি রাওয়ের উষ্মা, ‘কেন রাজ্য ও কেন্দ্রের দু’রকম অর্ডার? কালই এই প্রশ্ন তুলেছি। আবারও বলছি। এখন রাজ্য যা বলছে, সেই অবস্থান থাকলে যে কোনও একটা জায়গায় একই সময় যাবেন শিক্ষকরা— হয় সেনসাস করতে, না–হয় স্কুলে পড়াতে।’

    শিক্ষা দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তার এ দিনের নির্দেশিকা আরও ধোঁয়াশা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন শিক্ষকদের একটা বড় অংশ। শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, ‘আমরা স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর কাছে মঙ্গলবারই দাবি করেছিলাম, শিক্ষকদের এই দায়িত্ব (সেনসাস) থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। জোর করে চাপিয়ে দিলে কাজের দিনগুলি অন ডিউটি দিতে হবে। তিনি সেই দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আগের নির্দেশিকা বাতিল করে নতুন নির্দেশিকা দেওয়া হলেও তাতে অস্পষ্টতা থেকেই গিয়েছে। নির্দিষ্ট কাজের দিনগুলিতে অন ডিউটি দেওয়া হয়নি।’

  • Link to this news (এই সময়)