আগে রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং ছিল। কিন্তু গত তিন-চার বছরে তা কমার্শিয়াল হয়ে উঠেছে। দুটো বিল্ডিং জুড়ে ইংরেজি অক্ষর ‘এল’ আকৃতির বিল্ডিং তৈরি করা হয়েছিল। তার পরে সেই তিনতলা বাড়িটিরই প্রত্যেক তলায় তৈরি হয় হোটেল। ঘরও ছোট ছোট। অন্তত তেমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীদের। মঙ্গলবার রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই বাড়ির তিনতলার একটি হোটেলে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েনি ঠিকই। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা বাড়ি। দু’ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ এবং দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলেও, ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধোঁয়ায় দম আটকে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন মহিলা এবং ১ শিশু।
নিউ মার্কেট থানার এলাকার অন্তর্গত ওই হোটেলে আগুন লাগার ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। বাড়ির হোটেলের আবাসিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, যে ভাবে এই হোটেল খুলে ব্যবসা চলছিল, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। হোটেল তৈরির সময়ে কোনও নিয়ম মানা হয়নি। বাড়িতে আগুন নেভানোর ব্যবস্থাও ছিল না। নিয়ম হলো, এই ধরনের কমার্শিয়াল বিল্ডিংয়ে জরুরি প্রস্থান গেট থাকা বাধ্যতামূলক। অভিযোগ, ওই বাড়িতে সেই রকম কোনও জরুরি প্রস্থান গেট নেই। প্রবেশ এবং বেরোনোর জন্য একটিই মাত্র গেট। সেটিও সরু।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘তিন-চার বছর আগে ২টি বাড়ি জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। পিছনের দিকে থাকা সম্পূর্ণ ভিন্ন ঠিকানার বাড়িকে জোড়া হয়েছিল সামনের একটি বাড়ির সঙ্গে। এ ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি। বাইরে বেরনোর পথ ছিল না। থাকলেও তা খুবই সঙ্কীর্ণ।’
হোটেলের আবাসিকদের কেউ কেউ জানাচ্ছেন, রাতে আগুন লাগার ঘটনার পরে তাঁরা হোটেল থেকে বেরোনোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোন পথ দিয়ে বেরোবেন, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি। কারণ তত ক্ষণে গোটা বাড়িই গ্রাস করে ফেলেছিল কালো ধোঁয়া। প্রাণে বাঁচতে কেউ কেউ শৌচাগারে ঢুকে পড়েন। পরে সেখান থেকে তাঁদের উদ্ধার করেন দমকলকর্মীরা। এক আবাসিক বলেন, ‘দমকলের কর্মীরা সময় মতো না এলে আমরাও হয়তো বাঁচতে পারতাম না। আমাদের উদ্ধার করতে দমকলকেও বেগ পেতে হয়েছে।’ উল্লেখ্য, যে বাড়িতে আগুন লেগেছে, তার পাশে দমকলের দপ্তর।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, দমকলের দপ্তরে পাশে এ ভাবে হোটেল ব্যবসা চলছিল কী ভাবে? কেন তা এত দিন রাজ্য প্রশাসনের নজরে আসেনি? বহুতলে হোটেল ব্যবসা চালানোর জন্য দমকলের ছাড়পত্র কি আদৌ ছিল হোটেল মালিকদের কাছে?
দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বলেন, ‘কী করে এই হোটেলগুলো পারমিট পেল, ট্রেড লাইসেন্স পেল, সেটা তদন্ত করে দেখা খুবই প্রয়োজন। আমরা সব খতিয়ে দেখে কড়া ব্যবস্থা নেব। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী ঘটনার দিকে নজর রেখেছেন।’ বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠকের অভিযোগ, হোটেলগুলি বিধি মেনে তৈরি হয়নি। হোটেলের ঘরের সংখ্যা বাড়াতে পিলার কেটে জায়গা বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে ওই হোটেল ভবনটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সন্তোষের অভিযোগ, ‘এগুলো মূলত আবাসিক ভবন ছিল। সেটাকে বেআইনি ভাবে বাণিজ্যিক করা হয়েছে।’