• ‘অন্নপূর্ণা বাহিনী’: টুকরে টুকরে গ্যাং রুখতে নয়া ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
    এই সময় | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ এ বার বাংলায় অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে বলে দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই গ্যাংকে প্রতিরোধ করতে কলকাতার প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘অন্নপূর্ণা বাহি‍নী’ গড়ার পক্ষে মঙ্গলবার সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি চান, নারীশক্তি জোট বেঁধে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’য়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করুক। যদিও ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বলতে তিনি কাদের ইঙ্গিত করছেন, তার কোনও ব্যাখ্যা এ দিন দেননি মুখ্যমন্ত্রী।

    ‘অন্নপূর্ণা বাহিনী’ গঠনের বিষয়টিও এ দিনই প্রথম শোনা যায় শুভেন্দুর মুখে। এমনিতে বিজেপির মহিলা মোর্চা দীর্ঘ দিন ধরেই রাজ্যে সক্রিয় ভাবে কাজ করছে। আ‍লিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে এ দিনের দলীয় কর্মসূচির আয়োজকও ছিল তারাই। সেই অনুষ্ঠানে মহিলা মোর্চার প্রাক্তন সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়, মহিলা নেত্রী শতরূপা–সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। মহিলা মোর্চা থাকলেও আলাদা করে ‘অন্নপূর্ণা বাহিনী’ গঠন করা হচ্ছে কেন? ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি মেনে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে নতুন সরকার। বিজেপি সূত্রের দাবি, সেই প্রকল্পের সুবিধা যোগ্য সমস্ত মহিলা পাচ্ছেন কি না, তা দেখার জন্য রাজ্য সরকারের পাশাপাশি দলের তরফেও একটা সংগঠিত নজরদারি দরকার। একইসঙ্গে নারীসুরক্ষাও বিজেপি সরকারের ফার্স্ট প্রায়োরিটি। এই দু’টি বিষয় দলীয় স্তরে মনিটরিং ছাড়াও নতুন বাহিনীর কাজ হবে, কারা বিভিন্ন এলাকায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে, তা চিহ্নিত করা।

    এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং আমাদের দেশকে দুর্বল করতে চাইছে। আমাদের রাজ্যে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে।’ তাঁর সংযোজ‍ন, ‘ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে অন্নপূর্ণা বাহিনী তৈরি করুন। যে বাহিনী টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বীরঙ্গনার ভূমিকা নেবে। আমি চাই, এই বাহিনী রাজ্য সরকারের সহযোগী শক্তি হয়ে উঠুক।’ একই কথা শুভেন্দু বলেন মহাজাতি সদনে উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সাংগঠনিক কর্মসূচি থেকেও। সরাসরি কারও নাম না–করলেও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘এই টুকরে টুকরে গ্যাং দেশের মধ্যে থেকে দেশকে দুর্বল করতে চায়। আমাদের স্বদেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদে আঘাত হানতে চায়।’ তাদের বিরুদ্ধে ‘অন্নপূর্ণা বাহিনী’কে কার্যত লড়াইয়ে নামার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আপনারা মাতঙ্গিনী হাজরা, রানি রাসমণি অথবা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো ভারতীয় সংস্কৃতি, বাঙালি সংস্কৃতি রক্ষা করার জন্য বীরঙ্গনার ভূমিকা নেবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

    ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’–এর কথা বিজেপির সর্বভারতীয় ‍নেতা–নেত্রীদের মুখে অতীতে বহুবার শোনা গিয়েছে। এই ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’–কে বিভিন্ন সময়ে দেশবিরোধী শক্তি হিসেবেই বিশ্লেষণ করেছেন পদ্ম নেতৃত্ব। তবে পশ্চিমঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ রাজ্যের ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ কারা, তা খোলসা করেননি মুখ্যম‍ন্ত্রী।

    মহিলাদের উপরে কোনও অত্যাচারের ঘটনা ঘটলে তার বিরুদ্ধেও ‘অন্নপূর্ণা বাহিনী’কে গর্জে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন শুভেন্দু। দু’টি কর্মসূচিতেই মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শো‍না যায়, ‘আগামী দিনে মহিলাদের উপরে কোনও অত্যাচার, অবিচার হলে মা–বোনেদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অন্নপূর্ণা বাহিনী প্রয়োজন।’

    অন্নপূর্ণা যোজনায় উপভোক্তাদের তালিকা আরও নির্ভুল করার ক্ষেত্রেও মুখ্যমন্ত্রী এই বাহিনীর সহযোগিতা চাইছেন। শুভেন্দু বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা বড় প্রকল্প। সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস। তাই কিছু ভুল হতে পারে। আমরা সেগুলি সংশোধন করছি।’ তাঁর বার্তা, ‘কোনও যোগ্য‍ নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লে অথবা কোনও অযোগ্যের নাম এখনও তালিকায় থেকে গেলে সেগুলি আপনারা চিহ্নিত করে সরকারকে জানা‍‍ন। দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।’

    ধনধান্য অডিটোরিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে যোগ্যরা অন্নপূর্ণা প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য ২০ তারিখ (অগস্ট) একটি পোর্টাল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিশু ও নারীকল্যাণ দপ্তর খুলবে। সেখানে আপনারা আবেদন এবং অভিযোগ দুটোই করতে পারবেন।’ বিরোধীদের অভিযোগ, অন্নপূর্ণা যোজনায় অনুদান পাওয়ার জন্য যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের সিংহভাগই নির্বাচিত হননি। সেই অভিযোগ উড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথ্য–পরিসংখ্যান দিয়ে বলে‍ন, ‘১ জুন থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত ১ কোটি ৬৬ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। রাজ্য সরকার তাদের মধ্যে ১ কোটি ৪৫ লক্ষকে অনুমোদন দিয়েছে। সোমবার থেকে সেই টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। ১০ জুলাইয়ের পরে আবেদন করেছেন আরও ১৪ লক্ষ মহিলা। তাঁদের আরও এক মাস ধরে ভেরিফিকেশন চলবে। আমরা দেড় কোটির কাছাকাছি মহিলাকে যোজনায় অন্তর্ভুক্ত করেছি। অন্নপূর্ণা যোজনা আমাদের কমিটমেন্ট।’

  • Link to this news (এই সময়)