• বুলডোজ়ার দিয়ে সরানো হবে ইটভাটা, হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রার
    এই সময় | ১৯ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, পটাশপুর: নদী দখল করে থাকা ইটভাটা না সরালে বুলডোজার দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হবে- মঙ্গলবার চণ্ডীপুর, ভগবানপুর ও পটাশপুর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসে ভাটা মালিকদের এ ভাবেই হুঁশিয়ারি দিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার খাল ও নদীবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি এমন হতো না। নদী ও খালের উপরে দখলদারি বিগত সরকারের আমলে বেড়েছে।

    এ দিন মন্ত্রী স্পিড বোটে কেলেঘাই নদীর বাঁধ, গোকুলপুর ও গোপালপুরের দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখার পরে সেচ দপ্তরের আমগাছিয়া বাংলোয় সেচ দপ্তরের আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে বৈঠক করেন। মন্ত্রী জানান, বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় পুরো প্রশাসন মুখ্যমন্ত্রীর টিম হিসেবে রাস্তায় নেমেছে। কোথায় কী অবস্থা ঘুরে ঘুরে দেখা হচ্ছে। তাঁরা এ বার প্রস্তুত। ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন বলে জানান অগ্নিমিত্রা। তিনি বলেন, 'পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। জলস্তর নামছে। তবে যদি জলস্তর বাড়ে, তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।'

    অগ্নিমিত্রা আরও বলেন, 'নদীর গতিপথ বেআইনি ইটভাটা দখল করে আছে। সেগুলি উচ্ছেদ করা হবে। আমরা আগের সরকারের মতো টেবিলের তলায় দেওয়া-নেওয়া করি না। আমাদের কাছে মানুষের সেবাই প্রধান লক্ষ্য।'

    তাঁর দাবি, পটাশপুর-সহ জেলার বন্যা পরিস্থিতির জন্য নদীর গতিপথে দখলদারিকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগী মানুষ। কেলেঘাই নদীতে পলি ও কচুরিপানা জমার পাশাপাশি নদীর ভিতরে একের পর এক ইটভাটা গজিয়ে ওঠায় স্রোত বাধা পাচ্ছে। কেলেঘাই নদী, বাগুই খাল, শাখা খাল ও নিকাশি খালগুলোরও এক অবস্থা। ফলে জমা জল বেরোতে সময় লাগছে। মন্ত্রী বলেন, 'সোমবার হলদিয়া, দুর্গাচক, সুতাহাটা সব জায়গা ঘুরে দেখেছি। আজ ভগবানপুর, চণ্ডীপুর, পটাশপুর সব দেখছি। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পাঠিয়েছেন। আমার সঙ্গে রয়েছেন পিডব্লিউডি-র প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি অন্তরা আচার্য, ডিএম-এর দপ্তর থেকে সুপ্রিয় অধিকারী। বিডিও, এসডিও।'

    বারো চৌকা বেসিনের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, 'ওখানে জল বাড়ছে। বেশ কিছু পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরানো হয়েছে।' হলদিয়া, দুর্গাচক, সুতাহাটা, পটাশপুরের দুর্গত এলাকা থেকে অনেক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর থেকে দু'কোটি টাকা দিয়েছেন।'

    তাঁর অভিযোগ, 'আগের সরকারে আমরা দেখেছি, টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে কিন্তু তা মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। ত্রিপল, খাবার কিছুই মানুষ পাননি। এ বার কিন্তু পৌঁছবে।' তাঁর দাবি, 'মানুষকে যাতে জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে পারি, তার জন্য আমরা একটা কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান তৈরি করছি। নিকাশি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা হবে। তবে সেটা যে চটজলদি সম্ভব নয় আপনারা তা জানেন। আমরা চেষ্টা করছি, একটু সময় দিন।'

  • Link to this news (এই সময়)