আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে নির্বাচন। ওই রাজ্যের জয়-পরাজয়ের উপরে অনেকাংশে নির্ভর করছে আসন্ন লোকসভা ভোটের ভবিষ্যৎ। তা নজরে রেখে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে এ বার ভোটের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হচ্ছে মহারাষ্ট্রের ওবিসি নেতা বিনোদ তাওড়েকে।
শুধু উত্তরপ্রদেশই নয়, পাঞ্জাব এবং গুজরাটেও সামনের বছরে নির্বাচন হওয়ার কথা। এই দুই রাজ্যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে তরুণ চুঘ এবং সতীশ পুনিয়াকে।
তবে বিজেপি যে উত্তরপ্রদেশের ভোটকেই পাখির চোখ করেছে, তা দলের সাংগঠিক রদবদলেও খানিক স্পষ্ট হয়েছে। সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের টিমে সবচেয়ে বেশি প্রতিনিধিত্ব লক্ষ করা গিয়েছে উত্তরপ্রদেশ থেকেই। সেই দলের ভরকেন্দ্র হলেন বিনোদ এবং সুনীল বনসল। তাঁরাই দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে ২০১৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন সুনীল। তাতে বিরাট সাফল্যও এসেছে। এ বার সেই রাজ্যে যাচ্ছেন বিনোদ। তাঁর সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জগদীশ ঈশ্বরভাই প্যাটেল।
তাওড়ে সঙ্ঘের কাছের লোক। এর আগে তিনি বিহারের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সেখানে দল আসন ধরে রাখতে পারায় তাঁর গুরুত্ব বেড়েছিল। মহারাষ্ট্রেও মারাঠা নেতা তাওড়ের নেতৃত্বে ভালো ফল করেছে বিজেপি। প্রসঙ্গত, সর্বভারতীয় সভাপতি পদে জেপি নাড্ডার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে যখন সংগঠনের নতুন শীর্ষনেতা বাছাই নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছিল বিজেপির অন্দরে, তখন দৌড়ে তাওড়ে-ও ছিলেন। যদিও দলের একাংশের দাবি, ওবিসি পরিচয়ের কারণেই তাওড়ে দৌড় থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে ওবিসি সমাজের নেতা। সে কারণে নাড্ডার মতো ব্রাহ্মণ তথা উচ্চবর্ণের নেতাকে দলের শীর্ষে বসিয়ে ভারসাম্যের কৌশল নিয়েছিল বিজেপি। সেই ধারা বজায় রেখেই উচ্চবর্ণের নীতিনকে পরে সভাপতি করা হয়।