এই সময়, উদয়নারায়ণপুর: ডিভিসির জলাধার থেকে আগেই ১৯ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছিল। সোমবার আরও ৩৮ হাজার কিউসেক জল ছাড়ার খবর মিলেছে। সেই বিপুল জলরাশি আজ, মঙ্গলবার বিকেলে উদয়নারায়ণপুরের লাগায়ো দামোদরের উপর দিয়ে বয়ে যাবে। আর তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন উদয়নারায়ণপুর এবং আমতা ২ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দারা।
সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা অবশ্য আশ্বস্ত করছেন, ডিভিসি জল ছাড়লেও হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় এখনও কোনও ভয়ের সম্ভাবনা নেই। তবে ডিভিসির ছাড়া জলের সঙ্গে যে ভাবে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে দামোদরেও জলস্ফীতি ঘটবে। আর সেটাই চিন্তা বাড়িয়েছে বন্যা কবলিত এলাকা বলে পরিচিত উদয়নারায়ণপুর ও আমতার বাসিন্দাদের।
ভবানীপুর উদয়নারায়ণপুরের গ্রামের বাসিন্দা তমাল গুছাইত বলেন, 'বাঁধ যে ভাবে মেরামত হয়েছে, তাতে এখনই বিপদের আশঙ্কা হয়তো নেই। কিন্তু উদয়নারায়ণপুরের মানুষ গোয়াল পোড়া গোরুর মতো সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পায়। কারণ, অতীতে ডিভিসির জলাধার থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়লেই উদয়নারায়ণপুর ভেসে যেত। বন্যাটা আমাদের জলভাত হয়ে গিয়েছে। তাই কারও কথায় আমাদের বিশ্বাস হয় না।'
সেচ দপ্তরের এক আধিকারিকের অবশ্য বক্তব্য, 'বিশ্বব্যাঙ্কের টাকায় উদয়নারায়ণপুর এলাকায় দামোদরের বাঁধ আগের থেকে অনেকটা উঁচু করা হয়। নদী থেকে পলি উত্তোলনের ফলে দামোদরের জলধারণ ক্ষমতাও বেড়েছে। বর্তমানে যদি এক লক্ষ কিউসেকের বেশি জল ছাড়ে তাতেও কোনও সমস্যা হবে না। তবুও সাবধানের কোনও মার নেই। তাই সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা বাঁধের উপরে সর্বক্ষণ নজরদারি চালাচ্ছেন। সেচ দপ্তর ছাড়াও পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্তারাও বাঁধের অবস্থা সরজমিনে খতিয়ে দেখেছেন।'
সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ আরও বাড়াতে পারে, এটা ধরে নিয়েই উয়নারায়ণপুরের ডিহিভুরসুট, বকপোতা-সহ বিভিন্ন জায়গায় সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা লাগাতার নজরদারি চালাচ্ছেন। উদয়নারায়ণপুর ব্লকের দামোদর পার্শ্ববর্তী বকপোতার অদূরে গুছাইতপাড়ায় বাঁধ অপেক্ষাকৃত নিচু। তার উপরে বাড়তি নজর রাখছে সেচ দপ্তর। রূপনারায়ণ, মুণ্ডেশ্বরী, হুড়ড়িয়া খাল দিয়ে ঘেরা হাওড়া জেলার একমাত্র দ্বীপাঞ্চল ভাটোরা ও ঘোড়াবেড়িয়া চিৎনান গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মুণ্ডেশ্বরী নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি পেলেও, এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানাচ্ছেন সেচ আধিকারিকরা।