• লাগাতার বৃষ্টিতে ভাসছে শহর থেকে উপকূলও
    এই সময় | ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, ডায়মন্ড হারবার ও জয়নগর: নতুন করে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে রবিবার থেকে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনার জনজীবন। সোমবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার দাপট ছিল। সুন্দরবন ও উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টি ও ঝড়ের তীব্রতা ছিল বেশি। বকখালি, গঙ্গাসাগর, পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুর ও মৌসুনি দ্বীপে নদী ও সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। বেহাল বাঁধের বিভিন্ন অংশ দিয়ে জল উপচে উপকূলের গ্রামগুলিতে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

    সোমবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার দাপট ছিল। সুন্দরবন ও উপকূলবর্তী এলাকায় বৃষ্টি ও ঝড়ের তীব্রতা ছিল বেশি। বকখালি, গঙ্গাসাগর, পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুর ও মৌসুনি দ্বীপে নদী ও সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। বেহাল বাঁধের বিভিন্ন অংশ দিয়ে জল উপচে উপকূলের গ্রামগুলিতে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

    রবিবার রাতভর টানা বৃষ্টিতে ডায়মন্ড হারবার-সহ উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। দুর্যোগের জেরে সোমবার হুগলি নদীর পাড় বরাবর জাতীয় সড়ক লাগোয়া বাঁধের একাংশে ধস নামে। খবর পেয়ে প্রশাসন ও সেচ দপ্তরের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় বাঁধ মেরামতের কাজ। সেচ দপ্তর সূত্রে খবর, বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার নদীগর্ভে ভেঙে পড়ে। টানা বৃষ্টিতে বাঁধের মাটি নরম হয়ে যাওয়াতেই এই বিপত্তি বলে আধিকারিকদের অনুমান। দুর্যোগ চলতে থাকলে বাঁধ লাগোয়া জাতীয় সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধ লাগোয়া রাস্তা দিয়ে যান চলাচলের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। ভারী যানবাহনগুলোকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    কয়েক বছর আগে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের কাছেই জাতীয় সড়কে ধস নেমেছিল। সেই সময়ে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পকেই কাঠগড়ায় তুলেছিল বিরোধীরা। সেই ঘটনার পর ফের জাতীয় সড়ক লাগোয়া বাঁধে ধস নামায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। সৌরভ হালদার বলেন, '১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কটাই হুগলি নদীর বাঁধ হয়ে গোটা ডায়মন্ড হারবার শহরটাকে রক্ষা করছে। ভাঙন বাড়লে বাঁধ রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে।'

    জলমগ্ন ডায়মন্ড হারবার পুরসভা এলাকাও। সোমবার বেলা পর্যন্ত বহু রাস্তা, ঘরবাড়ি, স্কুল ও হাসপাতাল জলমগ্ন ছিল। রায়নগর স্কুল থেকে হরিনামতলা পর্যন্ত রাস্তা, সিআইগলি, কালীবাজার, লেনিননগরে রাস্তায় জল জমে যায়। মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভার একতারা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল। রায়নগর পুরবিদ্যালয়ে সোমবার বেলা পর্যন্ত স্কুল চত্বরে কোমরসমান জল ছিল।

    মুষলধারে বৃষ্টিতে ভাসছে জয়নগর। সোমবার ভোর থেকেই একটানা বৃষ্টিতে জয়নগর-মজিলপুর পুরসভা এলাকা ও বিস্তীর্ণ গ্রামীণ অঞ্চল জলমগ্ন। জল ঢুকেছে বহু বাড়িতে। রাস্তা নদীর রূপ নেওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত। হাঁটু সমান জল জমে যায় জয়নগরের দক্ষিণ বারাসত, বেলেদুর্গানগর ময়দহ, হরিনারায়ণপুর, গড়দেওয়ানি, শাহজাদাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডের রাস্তাঘাটও জলের তলায়। অনেক জায়গায় মাছের পুকুর ভেসে গিয়েছে। মাঠে সবেমাত্র রোপণ করা আমন ধানের চারাও তলিয়ে গিয়েছে জলের নীচে।

    ভারী বৃষ্টি হয়েছে কুলতলি, ক্যানিং, গোসাবা ও বাসন্তীতেও। বারুইপুর পুর এলাকায় রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)