• সেন্সাসে পথে টিচাররা, ব্যাহত ক্লাস, ধুঁকছে বহু স্কুল
    এই সময় | ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • আশিস নন্দী, বারাসত

    জনগণনার এনুমারেশনের কাজের প্রথম দিন সোমবার থেকেই জেলার বিভিন্ন স্কুলে তৈরি হয়েছে শিক্ষক সঙ্কট। এনুমারেশনের ফিল্ড সমীক্ষার কাজে শিক্ষক শিক্ষিকারা বাইরে থাকায় কোনও স্কুলে টিফিন পিরিয়ডেই ছুটি দিতে হয়েছে, কোথাও আবার স্কুলে এসেও ক্লাসে বসে থাকতে হয়েছে পড়ুয়াদের। কোথাও অঙ্কের টিচার বাংলার ক্লাস করাচ্ছেন, কোথাও ইংরেজির টিচারকে নিতে হচ্ছে বাংলার ক্লাস। বিশেষ করে ইলেভেন, টুয়েলভের বিষয় ভিত্তিক টিচার না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পড়ুয়াদের। স্কুল খোলা থাকলেও স্বাভাবিক পড়াশোনার ছন্দটাই জনগণনার প্রথম দিন হারিয়ে গিয়েছে। পঠনপাঠন স্বাভাবিক রাখতে কালঘাম ছুটেছে প্রধান শিক্ষকদের।

    মধ্যমগ্রাম শহরের রাজ্য সরকার অনুমোদিত একাধিক বাংলা মাধ্যমের স্কুল রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নামী স্কুল হলো মধ্যমগ্রাম বয়েজ হাইস্কুল। এই স্কুলের ছাত্র সংখ্যা ২৬৬৫। সোমবার স্কুলে গিয়ে দেখা গেল, ৪২ জন শিক্ষকের মধ্যে জনগণনার জন্য নেওয়া হয়েছে ৩০ জনকে। ৬ জন অশিক্ষক কর্মীর মধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে ৪ জনকেই। একসঙ্গে ৩০ জন শিক্ষক শিক্ষিকা জনগণনার ডিউটি করায় মাথায় হাত স্কুলের প্রধান শিক্ষক আশুতোষ ঘোষের। বাধ্য হয়ে সোমবার টিফিন পিরিয়ডেই স্কুল ছুটি দিতে হয়েছে তাঁকে।

    প্রধান শিক্ষক আশুতোষ ঘোষ বলেন, '৪২ জন টিচারের মধ্যে সেন্সাসের কাজ করছেন ৩০ জন। এই পরিস্থিতিতে ক্লাস নেওয়া যাচ্ছে না।' তিনি বলেন, রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের কাছ থেকে এক রকম নির্দেশ এসেছে। আবার রাজ্য নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে পুরসভার মাধ্যমে অন্য রকমের নির্দেশ এসেছে। তার ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আশুতোষ বলেন, 'সেন্সাসের ডিউটির দায়িত্বপ্রাপ্ত টিচারদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের ভুল বোঝাবুঝির পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। টিচার না থাকায় টিফিন পিরিয়ডে ছুটি দেওয়া হয়েছে।'

    জেলা সদর বারাসতে রয়েছে পূর্ব বারাসত আদর্শ বিদ্যাপীঠ হাইস্কুল। এই স্কুলে ৩৫০০ পড়ুয়ার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন ৪৪ জন। এর মধ্যে ২২ জনকেই জনগণনার কাজে ডিউটি দেওয়ায় তাঁরা ক্লাস নিতে পারছেন না। তাঁদের এনুমারেশন ফিল্ড সমীক্ষার কাজ করতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষক সঙ্কটে ক্লাস ফাইভ থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত জোড়-বিজোড় সংখ্যা করে একদিন অন্তর ক্লাস নেওয়ার কথাও ভাবতে হচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সমীর আচার্য বলেন, 'স্কুল তো বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। পড়ুয়ারা আসছে। কিন্তু টিচার না থাকায় ক্লাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। ইলেভেন ও টুয়েলভে বিষয়ভিত্তিক টিচার না থাকায় তাদেরও ক্লাস নেওয়া যাচ্ছে না। বাকি শিক্ষক শিক্ষিকা কেউ অসুস্থতা বা পারিবারিক কারণে ছুটি নিচ্ছেন। ফলে স্কুল চালাতে সমস্যা হচ্ছে।'

    জনগণনার কাজের প্রথম দিন থেকেই জেলার স্কুলে স্কুলে শিক্ষক সঙ্কটের যে ছবি উঠে এসেছে তা ভাবিয়ে তুলেছে বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষকে। এ ভাবে চলতে থাকলে স্কুলে তালা ঝোলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বারাসতের একটি স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা রুমা দে-র কথায়, 'সেন্সাসের ডিউটির জন্য যদি স্কুলের টিচাররাই না থাকেন, তা হলে ক্লাস নেবে কে? বিষয় বদলে ক্লাস নেওয়া বা পিরিয়ড বন্ধ রাখা কোনও স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।' জেলাশাসক শিল্পা গৌরীসারিয়াকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

  • Link to this news (এই সময়)