• সন্ধ্যা নামলেই গা ছমছম! কাঁকসার ২ স্বাস্থ্যকেন্দ্র যেন ভূতের বাংলো, পরিষেবাও তথৈবচ
    প্রতিদিন | ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • দেখে বোঝার উপায় নেই, এটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র নাকি ভূতের বাংলো! এক সময় ছিল ঝাঁ চকচকে। রোগীর ভিড় লেগেই থাকত। প্রসব হত, দুর্ঘটনায় আহত বা অসুস্থ মানুষকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হত। অথচ কয়েক দশক ধরে সেই ছবিটাই বদলে গিয়েছে। এখন দিনের কয়েক ঘণ্টা কোনওরকমে খোলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সপ্তাহে দু’-তিন দিন চিকিৎসক এলেও বাকি সময় পরিষেবা নিয়ে থাকে অনিশ্চয়তা। কাঁকসার বিদবিহারের শিবপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং মলানদিঘী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নিয়ে এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারপাশ এখন জঙ্গলে ঢাকা। পার্থেনিয়ামের দাপট বেড়েছে। রয়েছে সাপের উপদ্রবও।

    চিকিৎসক ও নার্সদের থাকার জন্য এক সময় একাধিক আবাসন ছিল। এখন সেগুলির অনেকগুলিই পরিত্যক্ত। কোথাও দরজা-জানালা ভাঙা, কোথাও আবার আগাছায় পুরোপুরি ঢেকে গিয়েছে। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরের ছবিটাই যেন ভয় ধরিয়ে দেয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকও রয়েছেন। কিন্তু নিয়মিত চিকিৎসা পরিষেবা মেলে না। দিনের কয়েক ঘণ্টা খোলা থাকার পর বাকি সময় কার্যত বন্ধই থাকে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে এই দুই এলাকার মানুষকে ছুটতে হয় প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে।রাতের দিকে সমস্যা আরও বাড়ে। অসুস্থ মানুষকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক সময় গাড়ি পাওয়া যায় না। অভিযোগ, সব সময় সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সও মেলে না। ফলে রোগীকে নিয়ে পরিবারের লোকজনকে পড়তে হয় চরম সমস্যায়।

    স্থানীয়দের দাবি, নতুন করে বড় হাসপাতাল তৈরির আগে এই দুই স্বাস্থ্যকেন্দ্রকেই ঠিক করা হোক। নিয়মিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী থাকুন। ওষুধ ও জরুরি পরিষেবা মিলুক। রাতেও যাতে মানুষ চিকিৎসা পান, সেই ব্যবস্থা করা হোক।ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর পরিত্যক্ত হাসপাতালের আবাসন সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এখন দেখার, শিবপুর ও মলানদিঘীর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দিকেও সরকারের নজর পড়ে কি না। স্থানীয় বাসিন্দা রাজনারায়ণ কেস বলেন, “একাধিকবার আমরা স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। এক সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি ঝাঁ চকচকে ছিল। এখন যা অবস্থা, দেখলেই ভয় লাগে। এখানে ঠিকঠাক পরিষেবা মিললে এলাকার মানুষের ভোগান্তি অনেক কমবে।” মলানদিঘী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ রাজীব কুমার মণ্ডল বলেন, “অনেক আগে বেডের ব্যবস্থা ছিল। এখন নেই। তবে আমরা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করি। মানুষকে সব সময় পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। আমরা আশাবাদী, সরকার এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির দিকেও বাড়তি নজর দেবে।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)