• মাঝআকাশে বিকল সুখোই, বুদ্ধি-ধৈর্যে নিরাপদ ল্যান্ডিং, পাইলটকে ‘শৌর্য চক্র’
    এই সময় | ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • মাটি থেকে ২.২ কিমি উচ্চতায় রয়েছে সুখোই-৩০ এমকেআই (Su-30 MKI)। গতি ঘণ্টায় গতি ৭৪০ কিমি। হঠাৎই যুদ্ধবিমানের ‘ফ্লাই-বাই-ওয়্যার’ (FBW) সিস্টেমে একের পর এক মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়ল পাইলটদের চোখে। ফ্লাইটের সামনের সিটে তখন এক ট্রেনি পাইলট। পিছনের ককপিটে স্কোয়াড্রন লিডার সুধীর কুমার। ততক্ষণে ভয়ে কুঁকড়ে গিয়েছেন ট্রেনি পাইলট। কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। ক্র্যাশ ল্যান্ডিং প্রায় অবধারিত। এক মুহূর্তও ঘাবড়ে না গিয়ে সুখোইকে মাটিতে নামিয়ে আনেন সুধীর। প্রাণ বাঁচে দু’জনের। চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ‘শৌর্য চক্র’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন সুধীর কুমার।

    ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ট্রেনি পাইলটকে নিয়ে সুখোই-৩০ আকাশে ওড়েন সুধীর। তখনও জানতে না, জীবনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা হতে চলেছে এটি। রাতের বেলায় কম উচ্চতায় নেভিগেশন মহড়ার জন্য উড়েছিল সুখোই। অবতরণের কিছুক্ষণ আগেই বিকল হয় যুদ্ধবিমানটি। বিকল হওয়ার কারণে তীব্র ভাবে কাঁপতে শুরু করে বিমানটি। যুদ্ধবিমানটির সামনের অংশ (Pitch) অবিশ্বাস্য দ্রুততায় ৪৫ ডিগ্রি উপর থেকে মাইনাস ১৫ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠানামা করতে থাকে।

    এর সঙ্গে জি-ফোর্সের মাত্রা মাইনাস ১.৫-জি থেকে প্লাস ১২-জি পর্যন্ত পৌঁছে যায়। জি-ফোর্স (মহাকর্ষীয় বল) হলো ত্বরণের একটি পরিমাপ, যা পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণের গুণিতক হিসেবে প্রকাশ করা হয়। সাধারণত আকাশে মহড়া দেওয়ার সময়ে পাইলটরা ৫-জি অনুভব করেন। ‘ডগ ফাইট’ বা যুদ্ধ চলাকালীন ৯-জি পর্যন্ত হতে পারে। (যেখানে মানবদেহের ওজন সাধারণের চেয়ে ৯ গুণ বেশি মনে হয়)। তবে ১২-জি মানুষের সহ্য ক্ষমতার বাইরে। অতিরিক্ত জি-ফোর্স মানুষের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা করে দেয়। জ্ঞান হারানোর পর্যন্ত ঝুঁকি থাকে।

    সেই মুহূর্তে ককপিটে তীব্র ঝাঁকুনি, ঝাপসা দৃষ্টিশক্তি এবং মারাত্মক শারীরিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও স্কোয়াড্রন লিডার সুধীর কুমার মনোবল হারাননি। অন্ধকারে বাইরের কিছু দৃশ্যমান না থাকায় এবং ড্যাশবোর্ডের মিটার স্পষ্ট দেখতে না পেয়েও তিনি স্টেডি থাকেন। অভিজ্ঞতার উপর ভরসা রাখেন। তিনি তৎক্ষণাৎ বিমানের গতি ধরে রাখতে ইঞ্জিন পাওয়ার পুনরায় বাড়ান। সুখোইয়ের গতি কমতে থাকে, যা সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দেয়। ধীরে ধীরে মাটির কাছাকাছি নিয়ে আসেন বিমানটিকে। পিছনের সিটে থেকেও ট্রেনি পাইলটকে শান্ত রাখেন। শেষমেশ নিরাপদে মাটি ছোয় বিমানটি।

    চরম শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যেও স্কোয়াড্রন লিডার সুধীর যে ধৈর্য, নেতৃত্ব এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেখিয়েছেন, তা সামরিক বিমান চালনার ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর এই অসামান্য সাহসিকতাকে স্বীকৃতি দিতেই স্বাধীনতা দিবসে ভারত সরকার তাঁকে 'শৌর্য চক্র' খেতাবে ভূষিত করেছে।

    প্রশ্ন: সুখোই-৩০ এমকেআইয়ের ঘটনাটি কবে ঘটেছিল?

    উত্তর: ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটনাটি ঘটে।

    প্রশ্ন: বিমানে কতজন পাইলট ছিলেন?

    উত্তর: স্কোয়াড্রন লিডার সুধীর কুমার এবং একজন ট্রেনি পাইলট—মোট দু’জন ছিলেন।

    প্রশ্ন: সর্বোচ্চ কত জি-ফোর্স তৈরি হয়েছিল?

    উত্তর: বিমানের ভিতরে জি-ফোর্স সর্বোচ্চ ১২-জি পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

    প্রশ্ন: কীভাবে বিমানটি দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায়?

    উত্তর: সুধীর কুমার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিমানের ইঞ্জিন পাওয়ার ও গতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং ধীরে ধীরে বিমানটিকে নিরাপদে মাটির কাছে নিয়ে আসেন।

    প্রশ্ন: সুধীর কুমার কোন সম্মান পেয়েছেন?

    উত্তর: অসাধারণ সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে ‘শৌর্য চক্র’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)