ফোনের পর এবার সিমকার্ডের টাকা দেবে রাজ্য, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সরকারি নম্বর
বর্তমান | ১৭ আগস্ট ২০২৬
সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সরকারি অর্থে আগেই ফোন কিনেছিলেন তাঁরা। এবার সিম কার্ডও কেনার টাকা দেবে রাজ্য। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য এমনই সিদ্ধান্ত নিল নারী, শিশু ও সমাজ কল্যাণ দপ্তর। তবে এই নম্বর থেকে কোনো রকম ব্যক্তিগত কাজ তাঁরা করতে পারবেন না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে দপ্তর। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর নামে নম্বর হলেও সেটি সংশ্লিষ্ট আইসিডিএসের যোগাযোগ করার মাধ্যম হবে। মোবাইল নম্বর সেন্টারের গায়ে বড়ো বড়ো করে লিখে রাখতে বলেছেন দপ্তরের আধিকারিকরা।
জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে জেলাগুলিকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ১ লক্ষ ৪ হাজার ৭৭ জন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সরকারের দেওয়া টাকা দিয়ে মোবাইল কিনেছেন। এতদিন এই ফোনে তাঁরা নিজেদের কেনা বা ব্যবহার করা সিম কার্ড ভরে কাজ করছিলেন। সেই নম্বর ছিল কর্মীদের ব্যক্তিগত। মোবাইল ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট নামক একটি সফটওয়্যার এইসব মোবাইলে ইনস্টল করা হয়েছে যাতে যে কাজ অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা করেন তার উপর যাতে নজর রাখা যায়। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, কাজ ঠিক মত হচ্ছে না। উল্টে তাঁরা সরকারিভাবে পৃথক সিমকার্ড দাবি করেছিলেন। কাজ যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় তাই দপ্তর সেই দাবি মেনে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সেই সিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সূত্রের খবর, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সিমকার্ড কিনে তার বিল জমা দেবেন অফিসে। তারপর সেই টাকা তাঁদের দিয়ে দেওয়া হবে। সরকারিভাবে একটি সিমের দাম যেন ৩১৯ টাকার বেশি না হয়। এই দাম বেঁধে দিয়েছে দপ্তর। সরকারি সিম কার্ড পেয়ে তার নম্বর দিয়ে শুধুমাত্র অঙ্গনওয়াড়ির যেসব কাজ করার দায়িত্ব রয়েছে কর্মীদের কাঁধে সেটাই তাঁরা করবেন। এক আধিকারিক বলেন, এই নম্বর দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে না। এমনকী সরকার ব্যতীত অন্য কোনো কাজের ওটিপির জন্যও এই নম্বর দিতে পারবেন না কর্মীরা। তবে আরো একটি বিষয় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেটা হল, কোনো অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী যদি বদলি, অবসর বা মারা যান সেক্ষেত্রে তাঁর পরিবর্তে যিনি আসবেন, তাঁকে সেই সিম কার্ড দিয়ে দিতে হবে।