অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: নাগরিকদের সুরক্ষায় পাড়া মিটিং শুরু করেছে বিধাননগর কমিশনারেট। প্রতি থানাতেই চলছে এই কর্মসূচি। পুলিশ অফিসাররা সরাসরি পাড়ায় পাড়ায় পৌঁছে বৈঠক করছেন বাসিন্দাদের সঙ্গে। সেখানে ভাড়াটিয়া ভেরিফিকেশন সহ একাধিক বিষয় নিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। তবে, ওই পাড়া মিটিংয়ে পুলিশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সাইবার ক্রাইম নিয়ে। কারণ, ডিজিটাল অ্যারেস্ট থেকে ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড। দিন দিন বাড়ছেই সাইবার প্রতারণা। প্রবীণ নাগরিকরা যেমন প্রতারিত হচ্ছেন, বাদ যাচ্ছেন না। বর্তমান প্রজন্মের তরুণরাও। লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়ে বহু মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। তাই সাইবার ক্রাইম নিয়েও জোরদার প্রচার চলছে।
চুরি-ছিনতাই কমে গেলেও বেড়েছে সাইবার প্রতারণা। অসাবধান হলেই বাড়ি বসেও ফাঁকা হয়ে যেতে পারে সম্পূর্ণ অ্যাকাউন্ট। কী কী ধরনের সাইবার ক্রাইম হয়, প্রতারকরা কীভাবে ফোন করে, কী কী সাবধানতা প্রয়োজন, এই সমস্ত কিছু বিষয় অবগত করা হচ্ছে। এখন সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন। সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, কেউ না জেনে, কেউ আবার প্রলোভনে পা দিয়ে সাইবার প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে বেড়েছে ডিজিটাল অ্যারেস্ট। বহু শিক্ষিক মানুষও এই প্রতারণার শিকার। পুলিশ, সিবিআই, কাস্টমসের অফিসার পরিচয় দিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে এই প্রতারণা চলছে। এতে বেশিরভাগ প্রবীণ নাগরিকরাই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অসংখ্য মামলা হয়েছে বিধাননগরে।
বেড়েছে অনলাইনে বিনিয়োগ প্রতারণা বা ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড। প্রতারকরা, উচ্চ রিটার্নের টোপ দিয়ে বিনিয়োগ করাচ্ছে। এতে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন। অনেকে ফোনে বিশ্বাস করে কোটি পর্যন্ত বিনিয়োগ করে দিচ্ছেন। সল্টলেক সহ বিধাননগর কমিশনারেটে এই ধরনের বহু অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এছাড়াও, ব্যাংকে কেওয়াইসি আপডেট, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে গিফট ভাউচার পাঠানো, ভিডিয়ো কল করে সেক্সটরশন, ক্রেডিট কার্ডে জমে থাকা পয়েন্ট রিডিম করার নাম করেও প্রতারণা চলছে। তাই বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি, বিপদে পড়লে কী করবেন, তারও বার্তা দিচ্ছে পুলিশ। কমিশনারেটের এই অভিনব উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন শহরের মানুষও।