পুষ্টিকর খাবার ছাড়াও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এলসিডি টিভিতে পড়াশুনো করবে কচিকাঁচারা
বর্তমান | ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রীতেশ বসু, কলকাতা: রাজ্যের প্রায় ৫০০টি 'সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি' কেন্দ্র গড়ে তোলার টার্গেট নিল রাজ্য। সূত্রের খবর, এই প্রকল্পের জন্য ৬০ শতাংশ টাকা দেবে কেন্দ্র আর বাকি ৪০ শতাংশ রাজ্য। এই প্রকল্পের অধীন রাজ্যের নিজস্ব জমিতে গড়ে তোলা হবে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি। যেখানে একশদিক অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকবে। থাকবে এলসিডি টিভিও। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে একদিকে যেমন পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করা হয়, ঠিক একই ভাবে পড়াশুনো করানো হয় কচিকাঁচাদের। প্রাথমিক স্কুলে যাওয়ার আগে প্রাক প্রাথমিকের পাঠ দানের অনেকটাই হয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। আর এই এলসিডি টিভি ব্যবহার করে আরো অভিনব এবং আকর্ষণীয় ভাবে পাঠ দান হবে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে।
রাজ্যজুড়ে বর্তমানে চলে অঙ্গনওয়াড়ি বা আইসিডিএস কেন্দ্র। তবে বহু কেন্দ্র রয়েছে যে গুলি ক্লাব, কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিয়ে চালাতে হয় রাজ্যকে। কিন্তু, রাজ্যের নিজস্ব বাড়িতে কেন্দ্র চললে নানা সুবিধা চালু করা যায় বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের। আর সেই কারণেই বেশি করে এমন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালু করতে চায় রাজ্য। এই প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছে সমাজ কল্যাণ দপ্তর। এই মর্মে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন, সুন্দরবন উন্নয়ন এবং পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তরের সঙ্গে সমাজ কল্যাণ দপ্তরের একপরস্থ আলোচনা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, এই দপ্তরগুলি নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে এই কাজ করতে পারে। সেই ক্ষেত্রে বাকি তিন দপ্তরকে জমির ব্যবস্থা করার অনুরোধ করা হবে। নির্মাণ কাজ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করবে সমাজ কল্যাণ দপ্তরের প্রদত্ত অর্থে। সেই ক্ষেত্রে বাকি তিন দপ্তরের সঙ্গে আর্থিক সমন্বয়ের সম্ভাবনাও থাকছে।
তবে শুধু এলসিডি টিভি নয়। এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে থাকবে উন্নত ওয়াটার ফিল্টার বা জল পরিশোধন ব্যবস্থা সহ আরো অন্যান্য 'চাইল্ড ফ্রেন্ডলি' পরিকাঠামো। অন্যদিকে, শুক্রবার কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে ‘পালনা’ নামে একটি নতুন ক্রেশ উদ্যোগের উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অঙ্গনওয়াড়ি-কাম-ক্রেশ কেন্দ্রের মাধ্যমে পরিচালিত এই প্রকল্পে শিশুদের নিরাপদ দিবাযত্ন, পুষ্টি এবং প্রাথমিক মানসিক বিকাশের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কলকাতায় বালিগঞ্জে একটি এমন কেন্দ্র দিয়ে এই প্রকল্পের পথ চলা শুরু হচ্ছে। আগামীদিনে চা বাগান এলাকা এবং ইট ভাটা এলাকায় এমন কেন্দ্র বেশি করে গড়ে তোলার টার্গেট নেওয়া হচ্ছে বলেও সূত্রের খবর।