কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলেকে এলোপাথাড়ি গুলি করে খুন, আতঙ্ক এলাকায়
বর্তমান | ১৭ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বাড়ি ফেরার পথেই ওঁত পেতে ছিল আততায়ীরা। গাড়ি থামিয়ে প্রথমে গুলি। তারপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ। শনিবার রাতে নদীয়ার নাকাশিপাড়া নাগাদি সংলগ্ন এলাকায় খুন হলেন কংগ্রেস নেতা আনিসুর রহমান(৫৫) এবং তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান( ২৪)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আতঙ্কে মধ্যে রয়েছেন বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বেথুয়াডহরি থেকে গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন আনিসুর ও তাঁর ছেলে। নাগাদি এলাকায় তাঁদের গাড়ি আটকে দেয় কয়েক জন দুষ্কৃতী। অভিযোগ, গাড়ি লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালানো হয়। এরপর গাড়ি থেকে নামিয়ে দুইজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। গুরুতর জখম হওয়ায় মৃত্যু হয় বাবা ছেলের।
আনিসুর ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য এবং নদীয়া জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক। নাকাশিপাড়া ব্লক কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান আইন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। ফলে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি একই পরিবারের দুইজনকে এইভাবে খুনের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠছে। ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক আধিপত্যের লড়াই রয়েছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।
আরও একটি প্রশ্ন উঠছে ছেলেকে নিয়ে। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, বাবাকে খুন করার সময় আবু সুফিয়ান ঘটনাস্থলে থাকায় তিনি হামলাকারীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে ফেলেছিলেন। সেই কারণেই তাঁকেও খুন করা হয়েছে বলে আশঙ্কা। তবে এই দাবি এখনও পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত নয়। জোড়া খুনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত। হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে এলাকার বিভিন্ন সূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরনো রাজনৈতিক বিবাদ, ব্যক্তিগত শত্রুতা না কি অন্য কোনও কারণ সব দিকই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন নদীয়া জেলা কংগ্রেসের নেতারা। দুই কংগ্রেস নেতার খুনের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে। জোড়া খুনের পর থেকেই থমথমে নাকাশিপাড়ার হরনগর এলাকা।
স্থানীয়দের দাবি, হরনগর পঞ্চায়েত এলাকায় এক সময় জুব্বার শেখের যথেষ্ট প্রভাব ছিল। সিপিএম থেকে তৃণমূলে যাওয়া ওই নেতা বর্তমানে জেলবন্দি। তাঁর জেলে যাওয়ার পর থেকেই এলাকায় কংগ্রেসের সংগঠন এবং আনিসুরের প্রভাব বাড়ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের। সেই কারণেই পুরনো রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে সংঘাতের চেহারা নিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় জুব্বার শেখের স্ত্রী তথা হরনগর পঞ্চায়েতের প্রধান ফতেমা বিবি, সাহেব আলি মণ্ডল সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ইতিমধ্যেই ।